নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চলতি অক্টোবর মাসেই হতে যাচ্ছে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ। যার ফলে ঘুঁচতে যাচ্ছে ডিএনডিবাসীর বহু বছরের দূর্ভোগ, হবে জলাবদ্ধ মুক্ত।
যেই লক্ষ্যে আগামী ১৫ অক্টোবর ডিএনডি বাঁধের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সাথে বৈঠক করতে যাচ্ছেন ডিএনডির জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দায়িত্ব প্রাপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ণ বোর্ডের কর্মকর্তারা। যেখানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের একাধিক মন্ত্রীসহ সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। আর তাই সেই বৈঠকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের নাগরিকদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

যিনিই একমাত্র এমপি যে, ডিএনডিবাসীর দূর্ভোগ অনুভব করাতে দুপুরের খাবার টেবিল থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ ফ ম মোস্তফা কামালকে উঠিয়ে এনে ডিএনডির অভ্যন্তরে নিয়ে এসেছিলেন। আর মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জোর দাবী খাটিয়ে একনেকে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ করিয়েছিলেন।

আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ বছরের অভিশাপ মুক্ত হতে যাচ্ছেন ডিএনডি এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ। যার আলোকে গত ২১ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ‘ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সমীক্ষার সুপারিশের আলোকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রণয়ন করে। ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদে ৫৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়সংবলিত প্রকল্পের ডিপিপি ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে অনুমোদিত হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্পৃক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, বিগত ১৯৬৫-৬৮ সালে রাজধানী ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, কদমতলী, শ্যামপুর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানা এলাকার ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর এলাকা নিয়ে ডিএনডি বাঁধটি নির্মিত হয়। ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশ পানিতে ডুবলেও ডিএনডি বাঁধ ছিল বন্যা মুক্ত।

আর ডিএনডি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এ এলাকার মানুষ যাতে খালের পানি সেচের মাধ্যমে ইরি ধানসহ যাবতীয় ফসল নির্বিঘেœ ফলাতে পারে। এলাকাটি ঢাকা শহরের অতি সন্নিকটে বন্যামুক্ত বিধায় এখানে ক্রমান্বয়ে গড়ে উঠতে শুরু করে বসতবাড়ি।

বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারনে ফসলের ক্ষেত বিলীন হয়ে এখানে বহুতল অট্টালিকার সমাহার গড়ে উঠে। যার ফলে এখন একটু বৃষ্টি হলেই বাঁধের ভিতর ও এর আশেপাশের রাস্তা, ঘরবাড়ি সবই জলাশয়ে পরিণত হয়ে যায়। যা রীতিমত মরণ বাঁধে পরিনত হয় ডিএনডি বাঁধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here