নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নিজেদের মাঝে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দ্বিধা বিভক্তি থাকলেও দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে অবশেষে এক টেবিলে বসেছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা। সঙ্গে ছিলেন দলীয় চেয়ারপাসৃণের দুই উপদেষ্টা এড. তৈমুর আলম খন্দকার ও জয়নাল আবেদীন ফারুক।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সকালে দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে একসাথে মিলিত হন তারা এবং পরবর্তী কনণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল নেতাকর্মীরা আবারো উজ্জীবিত হচ্ছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আবদুল হাই রাজু, ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান প্রমূখ।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে গত বছরে ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র কোন কমিটিতে রাখা হয়নি। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি’র সাথে এড. তৈমূরের একটা দুরত্বের সৃষ্টি হয়। কিন্তু দলীয় চেয়ারপার্সণের সাজার প্রতিবাদে এবং মুক্তির দাবীতে ডাকা কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয় এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে।

আর এড. তৈমূর আলমও অতীতের সব ক্ষোভ ভুলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারো রাজপথে নামেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে সভাপতি এড. আবুল কালামের সাথে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়।

এড. আবুল কালাম সাখাওয়াতকে পর্যুদস্ত করতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র পরগাছা হিসেবে বিবেচিত বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে লেলিয়ে দেন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে। টিপুও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাখাওয়াতকে নিয়ে একের পর এক মানহানীকর বিবৃতি দিতে থাকেন। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দর সাথে সাখাওয়াতের একটা দুরত্বের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র নেতাকর্মীরা গৃহবন্দি কর্মসূচি পালন করলেও সাখাওয়াত ঠিকই রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যহত রাখেন।

এতে করে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের গাত্রদাহ শুরু হয় এবং তারা কেন্দ্রেীয় বিএনপি’র কাছে সাখাওয়াতের কাছে নালিশ করেন। তবে দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ায় নেত্রীর মুক্তির দাবীতে সাখাওয়াত-আবুল কালামও তাদের পুরানো দ্বন্দকে ভুলে গিয়ে একসাথে কর্মসূচি পালন করছেন। অবশেষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা এক টেবিলে বসায় আশায় বুক বাঁধছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা আর নতুন করে উজ্জীবিত হচ্ছেন এবং এই ঐক্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অব্যহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here