নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দীর্ঘ দিনের ত্যাগ তিতিক্ষার পরেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে তৈরী হওয়া সকল দু:খ কষ্ট অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাই সকল দ্বিধা দ্বন্দ ঝেড়ে ফেলে পূর্ণ উদ্যমে ঝপিয়ে পরছেন তারা। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে মুক্তির পরীক্ষা ভেবে ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি তাই সকলে একসাথে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন।

যদিও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী এখনো পর্যন্ত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের পুরোপুরিভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হননি, তার নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়েই নির্বাচনের মাঠে ছুটে চলছেন। কিন্তু তিনিও চেষ্টা করছেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য।

জানা গেছে, এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ফাঁচটি আসনে মোট ১৪ জনকে ধানের শীষে মনোনয়ন দিয়েছিলো বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই ১৪ জনের মধ্যে পাঁচজন বেছে নেয়া ছিলো বিএনপি’র জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের কাজ। বিশেষ করে পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটি আসন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তটি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি মেনে নিতে পারেনি কিছুতেই। তাছাড়া বিগত দিনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দেওয়ায় হতাশা তৈরী হয়েছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। কিন্তু সকল দ্বিধা দ্বন্দ ভুলে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলীয় চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ এড. তৈমূরের পক্ষেই এ আসনে জনমত এগিয়ে ছিলো। কিন্তু চুড়ান্ত মনোনয়ন লাভ করেন কাজী মনির। আর এ সিদ্ধান্তে ভেঙ্গে পরেছিলেন তৈমূর ও দিপুর কর্মী সমর্থকরা। ধীরে ধীরে সে অবস্থার অবসান ঘটতে থাকে, কাজী মনির নিজে গিয়ে দিপু ভূইয়ার সাথে দেখা করে ধানের শীষের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। আর এড. তৈমূর আলম খন্দকারও সকল মান অভিমান ভুলে কাজী মনিরের সাথে অংশ নেন ধানের শীষের প্রচারনায়।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ দল থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পাওয়া সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর ও প্রয়াত নেতা বদরুজ্জামান খসরুপুত্র মাহমুদুর রহমান সুমনের বাসায় গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারনা শুরু করেন এবং আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত সকলকে সাথে নিয়ে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনা পর্যন্ত লড়াই করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এ আসনে বিএনপি’র সাবেক এমপি রেজাউল করীমের বাসায় গিয়ে দোয়া নিয়ে আসেন এবং দলীয় চেয়ারপার্সণকে কারামুক্ত করার জন্য ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতি ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহবান জানান।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এসএম আকরামের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এ অঞ্চলের বিএনপি। এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাথে বৈঠক করেন আকরাম। বৈঠকে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এ আসনে তিনবারের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে তার সহযোগীতা কামনা করেন এবং বলেন ‘ কালাম ভাই যেভাবে বলবে আমি সেভাবেই কাজ করবো’। আর এড. আবুল কালামও ধানের শীষের পক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন। আর এর সাথে এ অঞ্চলের সকল বিএনপি নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাঠে নেমে পরেছেন আকরাম এবং বিজয় অর্জণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ ষবাপতি মো: শাহ আলম ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র জমা দেন সাবেক এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন। কিন্তু শেষ মুহুর্তের চরম নাটকীয়তায় এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে। অচেনা কাশেমীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠে এ অঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ধানের শঅষের স্বাথে সবাই ফিরে আসছে নির্বাচনে কাশেমীর পাশে। ইতিমধ্যে অসুস্থ্য গিয়াসউদ্দিনকে দেখতে গিয়েছিলেন কাসেমী। চেষ্টা করছেন স্থানীয় বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি’র পুন:জাগরন সৃষ্টি করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here