নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অত:পর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই গুটি কয়েক নেতাকর্মী নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধানের শীষের গণসংযোগে নামলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্টের সমালোচিত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টায় কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনী প্রচারনায় নামেন তিনি। তবে প্রচারনায় নেমেও ফের সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন কাসেমী।

শীতের সকালে রিমঝিম বৃষ্টিতে নিজের মাথার উপড় ছাতা ধরিয়ে কাসেমী গণসংযোগে নামলেও পর্যাপ্ত ছাতার অভাবে তখন তাঁর কর্মী সমর্থকদের ভিজতে হয়েছে বৃষ্টিতে।

যা দেখে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাধারন ভোটার মন্তব্য করেন, ‘কর্মী সমর্থকরা বৃষ্টিতে ভিজলেও “নবাব” কাসেমী ঠিকই মাথার উপড় ছাতা ধরিয়ে নিয়েছেন। তাই যিনি নিজের কর্মীদেরই কষ্টে রেখে আরামে চলাফেরা করেন তিনি এমপি নির্বাচিত হলে জনগণের দু:খে কিভাবে পাশে দাঁড়াবেন সেটা এই দৃশ্য দেখেই অনুমান করা যাচ্ছে।’

বিএনপি কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, কাশীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম রতন, সহ- সভাপতি আমিরুল্লাহ রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির বিজ্ঞান ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক জাকির হোসেন ডালিম সিকদার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রথমে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও সহ-সভাপতি শাহ আলমকে ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র দেয়া হলেও শেষতক ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

এরপরই কাসেমীকে নিয়ে শুরু হয় খোদ বিএনপিতে সমালোচনা। দলীয় হেভীওয়েট এত প্রার্থী থাকা স্বত্তেও উক্ত আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী প্রার্থী শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে একজন অচেনা কাসেমীকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের ঝড় বয়ে যায়।

তারপর গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই অন্যান্য দলের প্রার্থীরা গণসংযোগে নেমে পড়লেও বিএনপির সাথে ঐক্য গড়ায় বিলম্ব হওয়ায় কাসেমী গণসংযোগে নামতে পারেনি। অত:পর সোমবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই অনুষ্ঠানিক ভাবে গণসংযোগে নামলেও নিজের মাথায় ছাতি ধরে কর্মী সমর্থকদের বৃষ্টিতে ভেজায় সমালোচনার মুখে পড়েন কাসেমী।

গণসংযোগের সময় সংক্ষিপ্ত পথসভায় কাসেমী বলেন, ‘অনেকেই বলছে আমাকে কেউ চিনে না, অপরিচিত প্রার্থী তাকে ভোট দেয়া যাবে না। আমি বলতে চাই আমাকে নয় আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন। আমার পরিচয়ের দরকার নেই। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। আমার প্রতীক ধানের শীষ। এ প্রতীক সারা দেশের আপামর জন সাধারনের প্রতীক, গনতন্ত্রের প্রতীক। আপনারা ধানের শীষে ভোট দেবেন।’

উক্ত আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, ‘ধানের শীষের জোয়ার দেখে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি আবোল-তাবোল বকছেন। আমাকে জঙ্গী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আমি আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে বলতে চাই, আমার পরিচয়টা জেনে নিন এবং আমি কে? কোথা থেকে এসেছি? কি করেছি? সব রেকর্ড আছে। আমার সিএস, এসএ, আরএস এই ফতুল্লার মাটিতে। আমি অন্য জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে এসে বসত গড়িনি। আমি এ মাটির সন্তান, এ মাটিতেই আমার বসবাস। পাস করলেও এখানেই থাকবো, ফেল করলেও এখানেই থাকবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here