নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অত:পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরই ঘোষণা হতে যাচ্ছে দীর্ঘ দেড় যুগ পর তিন-এ ভূমিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকার কারনে উপজেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রম পরিচালনায় সম্মস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে।

এছাড়াও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরো সুসংগঠিত করে তুলতে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অত্যাবশক হয়ে দাঁড়ায়। অত:পর জেলার শীর্ষ নেতাদের বারংবার তাগাদার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের জোর সুপারিশে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৭২ তম সাধারন অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করায় এবং বন্যা, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা কক্সবাজারে অবস্থান করায় অনুমোদনের পরও জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব হয়ে যায়। ফলে অনুমোদন হলেও এখন কেবল মাত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘সম্প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে দেশে ফিরার পরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে তাকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় নেতবৃন্দরা।’

জানাগেছে, দীর্ঘ দেড় যুগ পর গত বছরের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তিন সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল হাইকে সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী কে সহ-সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

আংশিক কমিটি ঘোষণার পর নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সকল ভেদাভেদ ভুলে শিগগিরই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

কিন্তু গত বছর ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২০ তম জাতীয় কাউন্সিলের পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা থাকলেও তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির ঘোষণা হওয়ার দীর্ঘ ৮ মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

দলীয় সূত্রমতে, বিগত ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর শহরের শহীদ জিয়া হলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় অধ্যাপিকা নাজমা রহমান সভানেত্রী ও শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে শামীম ওসমান দেশান্তরিত হন। আর রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন নাজমা রহমান।

পরে ২০০২ সালের ২৫ মার্চ নাজমা রহমান ও শামীম ওসমানকে বাদ দিয়ে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট খসড়া আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কয়েকজনের বিরোধীতা ও আপত্তির কারণে নাজমা রহমান ও শামীম ওসমানকে অন্তর্ভুক্ত করে ফের ২৭ মার্চ ঢাকার পান্থপথ সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। এতে সাবেক এমপি এসএম আকরামকে আহ্বায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। কথা ছিল আহ্বায়ক কমিটি ৩ মাসের মধ্যে সম্মেলন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। কিন্তু বেশ কয়েকবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেও শেষ পর্যন্ত কোন্দলের কারণে আর সম্মেলন হয়নি।

তারপর ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিক নির্বাচনের ঠিক পরদিনই জেলা কমিটির আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম। ২০১৪ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী মারা যান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মফিজুল ইসলাম।

এরপর প্রায় ১৯ বছর পর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here