নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রায় তিন দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে মুখ খুলেছে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেলের সাথে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে থাকা মাদক ব্যবসায়ী সাবিনা আক্তার রুনু (২৫)।
কিন্তু চতুর পুলিশ কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী কিছুতেই মুখ খুলছেনা বলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি সূত্রে জানাযায়।

এদিকে, পুলিশী রিমান্ডে আসা মাদক ব্যবসায়ী সাবিনা আক্তার রুনুর ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে মঙ্গলবার।

জানাগেছে, সদর মডেল থানায় মহিলা হাজতে থাকা রুনুকে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো: শরফুদ্দীনের সামনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো: গিয়াস উদ্দিন কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেও সে মাদক ব্যবসার ব্যাপারে মুখ খুলেনি। কিন্তু তৃতীয় দফায় সত্য স্বীকার করে এই নারী মাদক ব্যবসায়ী। কিভাবে এএসআই সোহরাওয়ার্দীর সাথে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়েছিলেন তিনি, সেই তথ্য জানায় রুনু।

তবে ডিবি কার্যালয়ে ৭ দিনের রিমান্ডে থাকা পুলিশের এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল এতটাই ‘চতুর’ যে সে এখনো মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানায়নি। ফলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারটি এখন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে ডিবি বলে জানাযায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মো: গিয়াস উদ্দিন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘নারী মাদক ব্যবসায়ী রুনুকে প্রথমে কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে আমাদের মিথ্যা তথ্য দেয়। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসা সম্পর্কে সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো অবদি মুখ খুলেনি এএসআই সোহরাওয়ার্দী। তাই তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারটি ট্র্যাকিং করে মাদক ব্যবসায়ীদের সনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এরআগে গত ৮ মার্চ রাতে এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও ইয়াবা ক্রেতা সাবিনা আক্তার রুনুসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মাদক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে ডিবির এসআই মো: মাসুদ রানা।

যার মধ্যে কুমিল্লা থেকে ইয়াবা আনায়নকারী আব্দুর রহমানসহ একজন ড্রাইভার পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাদী ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: মাসুদ রানা নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘কুমিল্লা থেকে আব্দুর রহমান নামে বড় মাদক ব্যবসায়ী গত ৭ মার্চ রাতে এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দীর রুবেলের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে এসেছিল। এরপর এই ইয়াবা ক্রয়ের জন্য বন্দর থানাধীন রূপালী আবাসিক এলাকায় রুবেলের বাসায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসে একই এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী আরিফের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রুনু। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দরে সোহরাওয়ার্দীর ফ্ল্যাট বাসায় অভিযান চালিয়ে বিছানার উপর বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে থাকা ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ সেখানে অবস্থানরত সোহরাওয়ার্দী এবং লুনার প্রদানকৃত ৫ লাখ টাকাসহ দুইজনকেই গ্রেফতার করা হয়।’

তবে এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানসহ আরেকজন গাড়ী চালক পালিয়ে যায় বলে আরও জানান, এসআই মাসুদ রানা।

গত ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থণা করলে আদালত সোহরাওয়ার্দীর ৭ দিন এবং রুনুর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে বন্দর রূপালী আবাসিক এলাকার ফ্ল্যাট বাসা থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হন সদর মডেল থানার তৎকালীন এএসআই আলম সোহরাওয়ার্দী রুবেল ও একই এলাকার ভাড়াটিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আরিফ আলমের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রুনু। এরপর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এএসআই সোহরাওয়ার্দী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। সদর মডেল থানায় চাকুরীকালীন সময়ে তাকে রাতের বেলায় ডিউটি দেয়া হলে তিনি কাজে ফাঁকি দিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন। এই ঘটনায় থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক জিডিও হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here