নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: তিনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি, একই সাথে করেন বিএনপির রাজনীতি। কিন্তু প্রত্যেকেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রাখলেও নিজেদের সুবিদার্থে এখন কেউ করছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, কেউবা জাতীয় পার্টির এমপির দালালী।
যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপি অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের ন্যায় তাদের আর হতে হয়নি বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আসামী। বিধায় অদ্যবধি কাউকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের আদেশে বহিস্কারও হতে হয়নি।

ফলে ক্ষমতাসীনদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি বেশ দাপুটের সাথে সরকার বিরোধী বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডও পরিচালনা করে যেতে পারছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি ও বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টু।

বিশেষ করে, নারায়ণগঞ্জের দুই উপজেলা চেয়ারম্যানের একের পর এক বিতর্কিত আচরনে বিপর্যস্ত হয়ে পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস এবং বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে সরকারী দলের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সাইনবোর্ড হিসেবে বিএনপিকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেন। আর তা পুরোটাই ওপেন সিক্রেট। এ দৃশ্য এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর গা সওয়া হয়ে গেছে। একজন জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আওয়ামীলীগের সমাবেশে সরকার দলীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতার কর্মী হিসেবে দাবী করার ঘটনা দেশের ইতিহাসে আর কোথাও দেখা না গেলেও এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াসের সৌজন্যে নারায়ণগঞ্জবাসী দু’চোখ ভরে তা উপভোগ করতে পেরেছে! এছাড়াও আজাদ বিএনপিকে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে বহুগুণ বেশী ব্যস্ত থাকেন সরকারী দলের তোষামদিতে। ফলে মাঝে মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে, তৃণমূলের হাতে তাকে লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায় থেকে কোন প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজাদ বিশ^াসের অশরীরী ক্ষমতায় স্তব্ধ তৃণমূল।

শুধু তাই নয়, সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ ও শিল্পপতি শাহ আলমের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে দীর্ঘ বছর যাবত ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি বিভক্ত ছিল। নেতাদের কারনে কর্মীরাও হয়ে পড়েছিলেন বিভক্ত। কিন্তু একটি উছিলায় এই দুইজনের মাঝে দলীয় স্বার্থে ঐক্য স্থাপনের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান একটি বিরল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করার প্রয়াস চালালেও তা ভেস্তে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ‘দালাল’ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস। এ নিয়েও বিতর্কের ঝড় বয়ে যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। আর সহ সভাপতি আজাদ বিশ^াসের এরূপ একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডে কলঙ্কের তিলক পড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র কপালে।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের বিতর্কিত কর্মকান্ডে নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছে মহানগর বিএনপি। বিএনপি’র পদ পদবী ব্যবহার করলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের সঙ্গেই বেশীরভাগ সময় দেখা যায় মুকুলকে।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কুকুর বলে গালি দেওয়া হলেও সে মঞ্চে বসে তা বেমালুম হজম করে গেছেন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মুকুল। তাছাড়া সরকারী দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা হাতে মুকুলের হাস্যোজ্জল ছবি বিভিন্ন গন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেখে মুকুল বিএনপি না আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিলো বিএনপি’র তৃণমূলে।

তাছাড়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যখন ডিআইটির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা কেক কাটছিলেন, তখন মুকুল আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছিলেন। পরে রাতে নিজ বাসভবনে বসে এড. আবুল কালামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। যা নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। আর সদর-বন্দরের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনের উপ নির্বাচনে মুকুল প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেন। এরপর সম্প্রতি বন্দরে একটি জনসভায় প্রকাশ্যেই সেলিম ওসমানের সাথে কাজ করার ঘোষনা দেন। তারপর মুকুলের এই ঘোষনায় আগুন জ¦লে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ভিতরে লুকিয়ে থাকা সরকারী দলের গুপ্তচর হিসেবে পরিচিত শওকত হাশেম শকুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করে বিতর্কের জন্ম দেন সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত কাউন্সিলর শকুর আচরনের কারনে দলে ঐক্য সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবী করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

প্রায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা যেখানে মামলা হামলায় দিশেহারা, সেখানে সরকারী দলের সাথে তথা নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সেলিম ওসমানের সাথে আঁতাত করে শকু এখন দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছেন।

যেই কারনে ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নাশকতার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ৭টি মামলায় শীর্ষস্থানীয় অর্ধশত নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ায় পাশাপাশি প্রায় ৭শ’ নেতাকর্মী আসামী বনে গেলেও বিএনপির সুবিধাবাদী এই তিন পদধারী নেতা হননি কোন থানায় আসামী।

তবে এবার কিছুটা ব্যাতিক্রম ঘটেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে চলা ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মনিরুল আলম সেন্টুর ক্ষেত্রে।

বিএনপির নেতা ও জনপ্রতিনিধি হয়ে আওয়ামীলীগের এমপি নেতাদের সাথে লিয়াজু করে চললেও ৮ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত ৪ ফেব্রুয়ারী সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় আসামী হতে হয়েছে তাকে।

আর এটিকে সেন্টু দুর্ভাগ্য হিসেবে দাবী করছেন তার অনুগামী তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। আবার এই মামলায় সেন্টুকে আসামী করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের কারো ইন্ধন থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির একাধিক নেতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here