নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: অতিবর্ষণের পানি আটকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তিনটি সেচ প্রকল্প এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী সেচ প্রকল্প, অগ্রণী সেচ প্রকল্পের ভেতর বসবাসরত ৫ লাখ মানুষের মধ্যে দেড় লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রকল্পের ভেতরের সবকটি রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে। শত শত ঘরবাড়িতে হাটু পানি। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদে পানি প্রবেশ করায় অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ।

এদিকে তিনটি সেচ প্রকল্পের অধিকাংশ পানি নিষ্কাশন পাম্পগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা রোধে জরুরী সভা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতেহ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দুর্ভোগ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও তারাব পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সরোয়ার, তারাবো পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী জেড এম আনোয়ার, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জরুরী সভা করে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সেচপাম্প চালু করেন।

জলাবদ্ধতার কারণে তারাব পৌরসভার মৈকুলী, খাদুন, মাসাবো, কান্দাপাড়া, তেতলাব, আড়িয়াব, বরপা, সুতালরা, রূপসী, গর্ন্ধবপুর, ভারগাঁও, কাজীপাড়া, খিদিরপুর, কাহিনা, শান্তিনগর, রসুলপুর, কামলানগর, দিঘীবরাব, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের নাগেরবাগ, বৌবাজার, গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়া, ইসলামবাগ, বাগ মোচরা, আমলাব, কালী, ডুলুরদিয়া, বলাইখা, ভুলতা ইউনিয়নের আউখাব, ভান্ডাবো, মর্তুজাবাদ, সোনাব, মাঝিপাড়া, কৈরাব, মাঝিপাড়া, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর, নার্সিংগল এলাকার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতার পানিতে বন্দি জীবন যাপন করছেন। এসব এলাকার অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন, মসজিদ, মাদ্রাসায় জলাবদ্ধতার পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া সেচপ্রকল্পের প্রধান খাল খনন করা না হলে এ দুর্ভোগ স্থায়ী আকার ধারণ করবে।

এদিকে ভুলতা, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ২০ টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতা রোধে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। অবিলম্বে সেচ প্রকল্পের বেদখলকৃত ক্যানেল পুনরুদ্ধার ও স্লুইচ গেট চালুর দাবি জানান।

রূপগঞ্জ উপজেলার এসিএস টেক্সটাইল, লিথুন ফেব্রিক্স, অলটেক্সসহ শতাধিক মিলকারখানার বর্জ্য পানি সরাসরি কৃষি জমিতে ফেলার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তারাবো পৌর এলাকায় সারা বছরই জলাবদ্ধতা থাকে। ওই সব মিলকারখানার মালিকেরা সেচ প্রকল্পের ক্যানেল দখল করে রাখায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। অনেকেই যাতায়াতের জন্য সাঁকো, বসবাসের জন্য মাচাং তৈরি করেছেন। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের অভাব। ভেঙে পড়েছে রাস্তাঘাট।

যাত্রামুড়া কার্যালয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি আব্দুর জব্বার জানান, অতি বৃষ্টির কারণে সেচ প্রকল্পের পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। সব কটি পাম্প মেরামত করে চালু করা হয়েছে। এখন বিদ্যুতের লোডশেডিং না দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান ভুঁইয়া বলেন, অচিরেই পানি নিষ্কাশন খাল খননসহ জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here