নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ একেএম শামীম ওসমানের গত বছরের ঘোষনা অনুযায়ী এবারের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্যাণেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে এড. হাসান ফেরদৗস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার হাতে। নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় দল মত নির্বিশেষে ব্যাপক জনপ্রিয় এ দুই আইনজীবীর বিপরীতে বিএনপি’র প্রার্থী অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়ায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা।

তবে এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করে বোদ্ধা মহল। আর তাই প্রতিপক্ষকে খাটো করে না দেখে নির্বাচনী কৌশলের পুরোটাই প্রয়োগের জন্য জুয়েল-মোহসীনের প্রতি আহবান তাদের।

সূত্রে প্রকাশ, গত বছরের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের আগে প্যাণেল পরিচিতি সভার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান পরবর্তী বার নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ প্যাণেলের সভাপতি পদে এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এড. মোহসীন মিয়ার নাম ঘোষনা করেন।

সাংসদ শামীম ওসমান সেদিনের সেই ঘোষনার ধারাবাহিকতায় এবারের বার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের সাথে বৈঠকে জুয়েল-মহসিনের প্রতি তার সমর্থণ অক্ষুন্ন রাখেন। যদিও সেই বৈঠকে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাসহ আওয়ামী পন্থী অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা সাংসদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন এবং বিকল্প প্রার্থীর প্রস্তাব করেন। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থণের পাশাপাশি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার প্রতিদান স্বরূপ তাদের হাতেই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব তুলে দেয় মনোনয়ন বোর্ড।

এদিকে এড. জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার মনোনয়নে উজ্জীবিত নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ার আইনজীবীরা। তাদের মতো তরুন আর উদীয়মান প্রার্থী পেয়ে জয়ের বিকল্প ভাবছে না আওয়ামীলীগ পন্থী আইনজীবীরা।

মনোনয়ন পেয়ে এড. জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়া তাদের প্রথম বিজয় অর্জণ করেছেন। এখন এই বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চুড়ান্ত সফলতা অর্জণের পথে ছুটে চলেছে তাদের অগ্রযাত্রা। আর এ অগ্রযাত্রায় দল মত নির্বশেষে সাড়াও মিলছে ব্যাপক। ফলে এবারের প্যাণেল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা। আর এই প্যাণেলের বিপরীতে বিএনপি’র জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যাণেলের সভাপতি পদে এড. জহিরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এড. আবদুল হামিদ ভাষানী হয়ে যায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ।

ফলে আওয়ামীলীগের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নির্বাচন বোদ্ধারা এই অতিরিক্ত আত্মবিশাসকে শংকা হিসেবে বিবেচনা করছেন জুয়েল-মোহসীনের জন্য। কারন আত্মবিশ^াস বেশী থাকলে প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় কৌশল অবলম্বনে গড়িমসি করে আর এই সুযোগে দুর্বল প্রতিপক্ষই বাজিমাত করে দিতে পারে, তাই আত্মবিশ^াসকে প্রশ্রয় না দিয়ে নির্বাচনের পুরোটা দিয়ে চেষ্টা করার আহবান জুয়েল-মোহসীনের প্রতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here