নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রায় দেড় মাস পর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের প্রথম সিদ্ধান্তই যথাসময়ে বাস্তবায়নে আবারো পিছু হটতে হলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ ফেব্রুয়ারী ব্যর্থতার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ দ্বিতীয় দফায় ১৭ ফেব্রুয়ারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিণক্ষন চূড়ান্ত করলেও ফের সেই দিনটিতেও বঙ্গবন্ধুর মাজারে যাওয়া স্থগিত করেছে শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

ফলে অনেকটাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জেলা আওয়ামীলীগের টুঙ্গিপাড়া যাত্রা বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন জেলা কমিটির একাধিক সদস্য।

তবে দায়িত্বশীল নেতাদের দাবী, কমিটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাসহ কয়েকদিন পরেই দলীয় কিছু কর্মসূচী পালন করার প্রস্তুতি নেয়ার কারনে দ্বিতীয় দফায় ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিনক্ষন করা হলেও সেটি স্থগিত করা হয়েছে। যা আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারীর পর পুনরায় নির্ধারন করা হবে।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুর অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। আর মানবদেহে অস্ত্রোপাচারের কারনে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে রাজধানীর দু’টি হাতালে চিকিৎসাধান আছেন, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আলহাজ¦ নজরুল ইসলা বাবু এবং কার্যকরী সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম। এছাড়াও আরও কয়েকজন সদস্য নানাবিধ কারনে ব্যস্ত রয়েছেন।

তাই ১০ ফেব্রুয়ারীর পর ১৭ ফেব্রুয়ারী নির্ধারিত সম্ভাব্য দিনের টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রা স্থগিত করেছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

এইলক্ষ্যে ইতমধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের প্রস্তুতি নিতে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, গত ১৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ কার্যালয়ে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির ওয়ার্কিং কমিটির প্রথম বৈঠকে ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

যার ফলে টুঙ্গিপাড়ার সেই অজপাড়া গাঁয়ে জন্মগ্রহণ করা স্বাধীন বাংলার স্থপতি ও স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত সেই ১০ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় আর যেতে পারেনি জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

পরবর্তীতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী বিকেলে শহরের দলীয় কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত আহ্বায়ক ভাষা সৈনিক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণ সভার প্রাক্কালে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন জেলা কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। যেখানে ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের সিদ্ধান্ত নেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

তবে তারপূর্বে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতেই শহরের চাষাড়ায় আব্দুল হাইয়ের বাসায় ঘরোয়া বৈঠকে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান দলটির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা। আর ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে কমিটির সদস্যদেরও জানিয়ে দেন দায়িত্বশীল নেতারা।

কিন্তু শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) যখন টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্যরা, ঠিক তার আগমুহুর্তে ফের এইদিনটিতেও টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়ে দেন শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘১০ ফেব্রুয়ারীর পর ১৭ ফেব্রুয়ারী টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নির্ধারন করা হলেও দলের একাধিক শীর্ষ নেতা অসুস্থ্য থাকাসহ আগামী ২০ ও ২৫ ফেব্রুয়ারী দলীয় কার্যালয়ে কর্মসূচী থাকায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারীর পর টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।’

তবে পরবর্তীতে আবার কবে নাগাদ যাওয়া হতে পারে, এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সম্ভাব্য কোন দিনক্ষণ জানাতে পারেননি আব্দুল হাই।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক ও ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির ঘোষণার প্রায় বছর খানেক পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কমিটির সহ-সভাপতিরা হলেন, মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, আব্দুল কাদির, শিকদার গোলাম রসুল, আদিনাথ বসু ও খাজা রহমত উল্লাহ।
যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম, ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও ইকবাল পারভেজ।

আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ উর রউফ, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক খলিল হাসান, ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক আলমাছ ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ মানজারী আলম (টুটুল), শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী আলম নিলা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মো. নিজাম আলী।

সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, মীর সোহেল আলী, একেএম আবু সুফিয়ান।

উপ দপ্তর সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির।

আর ৩৪ জন কার্যকরী সদস্য হলেন, গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি (বীর প্রতিক), নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, হোসনে আরা বাবলী এমপি, এমদাদুল হক ভুঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, মোশারফ হোসেন, হাজ্বী আমজাদ হোসেন, মো. মির্জা সোহেল, আবুল বাশার টুকু, সাইফুল্লাহ বাদল, মোহাম্মদ মতিউর রহমান, শওকত আলী, মাসুম রহমান, হালিম শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ডিলার, বিএম কামরুজ্জামান ফারুক, তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, শাহজাহান ভূঁইয়া, শাহজালাল মিয়া, হেলো সরকার, অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম, আব্দুর রশিদ, সিরাজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, শীলা রাণী পাল, অ্যাডভোকেট ইসহাক, শামসুজ্জামান ভাষানী, মেজর (অব.) মশিউর রহমান, সাদেকুর রহমান, মজিবুর মন্ডল, ইউসুফ ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here