নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: উন্নয়নের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ’র নির্মানাধীন বহুতল ভবনের রাস্তার জন্য রাজউকের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর প্রতি অনুরোধ রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান।
কিন্তু এবার ছোট বোন আইভী তার বড় ভাই সেলিম ওসমানের অনুরোধ রাখবেন কিনা এনিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। কারন, এই আইভীর অনুরোধেই একদিন সেলিম ওসমান নগর ভবনে বসে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডটি উঠিয়ে দিতে ব্যবসায়ীদের আল্টিমেটামসহ প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুংকার দিয়েছিলেন।

গত ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের কাছে জনস্বার্থে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদের দাবী জানিয়েছিলেন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।

মেয়র বলেছিলেন, ‘গত প্রায় আট বছর যাবত আমি এই ষ্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ডিসি অফিসে নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি মিটিংয়ে ডিসি আহ্বান করেছিলেন, যাতে ব্যবসায়ীরা দিনের বেলায় মালামাল লোড-আনলোড না করে রাতের বেলায় করেন। এতে তারা দাবী করেছিলো তাদের বেশি ব্যয় হবে। সেটা তারা করতে পারবে না। পরবর্তীতে ডিসি নিরুপায় হয়ে আপনার (সেলিম ওসমান) মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু আমি জানি সম্মানিত সাংসদের একটি মুখের কথায়ই এখানে ষ্ট্যান্ড থাকবে না। তাই আমি সম্মানিত সাংসদকে অনুরোধ করবো, এই অবৈধ ষ্ট্যান্ড উচ্ছেদের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করুন।’

এরপরেই হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ছোট বোন মেয়র আইভীর এই দাবীর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান নিতাইগঞ্জে দিনের বেলায় আর লোড-আনলোড না করতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন।

এমপি হুংকার দিয়ে বলেন, ‘আমার এই কথার পর যদি আবারো রাস্তার উপর ট্রাক রেখে লোড আনলোড করা হয়, তাহলে সম্মানিত মেয়রকে সাথে নিয়ে আমি লাঠি হাতে রাস্তায় নামবো। দেখবো কে বাঁধা দিতে আসে।’

যদিও সেই ট্রাক স্ট্যান্ডটি উঠাতে সেলিম ওসমানকে আর ছোট বোন আইভীকে সাথে নিয়ে আর রাস্তায় নামতে হয়নি। তার পূর্বেই সেলিম ওসমান স্থানীয় প্রশাসন, নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা করে মন্ডলপাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত ভোর ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত সড়কে মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রেখে রাতের বেলায় লোড আনলোডের সময়সীমা নির্ধারন করে দেন। আর দিনের বেলায় শুধুমাত্র খালঘাট এলাকায় টোকেন প্রাপ্তি সাপেক্ষে দৈনিক সর্বোচ্চ ৮০ টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেন।

এরপরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী যেখানে দীর্ঘ ৮ বছরেও মন্ডলপাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত সড়কে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদ করতে পারেন নি, সেখানে তারই অনুরোধের প্রেক্ষিতে মাত্র কয়েকদিনে এই বড় সম্যস্যাটি ব্যবসায়ী, শ্রমিকদের নিয়ে বসে সমাধান করে দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান।

যার ফলে এখন দিনের বেলায় মন্ডলপাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ মোড় পর্যন্ত সড়কে ট্রাক রেখে আর মালামাল লোড-আনলোড হয় না। আর স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারছে সাধারন পথচারীসহ যাত্রীরা।

তাই সেলিম ওসমান আইভীর অনুরোধ রাখলেও এখন আইভী ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সমাজের স্বার্থে সেলিম ওসমানের অনুরোধ রাখবেন কিনা এনিয়ে সন্দিহান দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। তাদের মতে, সেলিম ওসমান যেমন জনস্বার্থে আইভীর অনুরোধ রাখতে নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ডটি উঠিয়ে দিতে পেরেছেন, তেমনি আইভীরও এখন উচিত হবে সেলিম ওসমানের অনুরোধে উন্নয়ণের স্বার্থে রাজউকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ’র ভবন নির্মানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে অফিস বেয়ারাস নির্বাচনে চতুর্থবারের মত সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এবং নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর প্রতি অনুরোধ রেখে বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নির্দেশ দিয়ে ছিলেন বিকেএমইএ নারায়ণগঞ্জ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রধান কার্যালয় এবং মূল কার্যক্রম গুলো যেন নারায়ণগঞ্জ থেকেই পরিচালিত হয়। সেই মোতাবেক আমরা নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় বিকেএমইএ একটি নতুন কার্যালয় নির্মান কাজ শুরু করেছি। কিন্তু কার্যালয়ের সামনে সামান্য ৪ কাঠা জমি নিয়ে সামান্য ঝামেলা থাকায় সেই নির্মান কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘ভবনের রাস্তার জন্য আমরা রাজউক থেকে টেন্ডারে সেই জমিটুকু নিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওই জমির মালিকানা নিয়ে রাজউকের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে মামলা চলছে। বর্তমানে জমিটির উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু বিকেএমইএ শুধু মালিকদের সংগঠন নয়। এর মাধ্যমে ৩৫ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বিকেএমইএ অসহায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সোচ্চার থাকে। তাই আমি নারায়ণগঞ্জবাসী সহ ৩৫ লাখ শ্রমিকের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে রাজউকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সিটি কর্পোরেশনের মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য মেয়রের প্রতি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। উনি যদি মামলাটি তুলে নেন তাহলে হয়তো আগামী ৬ মাসের মধ্যে বিকেএমইএ একটি নিজস্ব কার্যালয় নারায়ণগঞ্জে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here