নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে জেলা প্রশাসনের ইজারা দেয়া আলীগঞ্জ পশুর হাটে জমাজমাট কেনা বেচা চলছে। অথচ হুংকার দিয়েও যেন গণপূর্ত বিভাগ নির্বিকার!
একটি মামলায় আলীগঞ্জ মাঠে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও জায়গার মালিক গনপূর্ত বিভাগকে না জানিয়েই এই মাঠে পশুর হাটের ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতিরোধের জন্য যাদের এগিয়ে আসার কথা, সেই গণপূর্ত বিভাগের রহস্যজনক নীরবতায় হতবাক নারায়ণগঞ্জবাসী।

তারা মনে করেন, আলীগঞ্জ মাঠ ভোগ দখলকারী শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের সাথে প্রশাসনের সমঝোতার মাধ্যমেই এ অনৈতিক কাজটি সংগঠিত হয়েছে। অথচ এ ধরনের একটি অন্যায় চোখের সামনে ঘটে চললেও প্রতিকারে এগিয়ে আসছে না কেউ। আর তাই অবৈধ আলীগঞ্জ হাটের ইজারা বাতিলের দাবী জানিয়েছেন তারা।

সূত্র মতে, চলতি বছরে জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনুমতি দেয়া বেশ কয়েকটি পশুর হাট নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ মাঠে পশুর হাটের ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন অথচ সে জায়গার মালিক নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ। গণপূর্ত বিভাগকে না জানিয়েই তাদের সম্পত্তিতে হাটের ইজারা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার চৌধুরী। এবং জেলা প্রশাসনের ইজারা দেয়া আলীগঞ্জ পশুর হাটকে অবৈধ হাট হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার হুংকার দিয়েছিলেন। কিন্তু ইজারার পর থেকে আলীগঞ্জ পশুর হাটে জমজমাট কেনাবেচা চললেও গনপূর্ত ভিাগের কোন পদক্ষেপ চোখে পরেনি।

তাছাড়া ফতুল্লা আলীগঞ্জের ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মালিক গণপূর্ত বিভাগ। সেই ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে ৫ একর ৭০ শতাংশ জমিতে আলীগঞ্জ মাঠ অবস্থিত। ইজারা দেওয়া হয়েছে ৫ একর ৭০ শতাংশ জায়গা, কিন্তু ইজারাদাররা দখল করে আছে পুরো ১১ একর ৬৫ শতাংশসহ আশেপাশের খালি জায়গা।

এছাড়াও গনপূর্ত বিভাগের সাথে আলীগঞ্জ মাঠ ভোগ দখলকারী শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের মধ্যে চলমান একটি মামলায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এই মাঠে। আর এই আলীগঞ্জ মাঠ অবস্থিত ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের একেবারেই পাশে। এই হাটের কারনে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকে। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসন এই হাটের অনুমতি দেয়। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই গনমাধ্যমসহ নারায়ণগঞ্জবাসীর মাঝে বইছে সমালোচনার ঝড়।

এ বিষয়ে জানতে সোমবার (২৮ আগষ্ট) নারায়নগঞ্জ গনপূর্ত বিভাগ, জেলা প্রশাসক ও সদর ইউএনও’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২১ আগষ্ট) আলীগঞ্জ মাঠে পশুর হাটের ইজারা দেয় উপজেলা প্রশাসন এবং সর্বোচ্চ ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এই ইজারা লাভ করেন আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশের চ্যালা আরিফুল ইসলাম। মাঠ রক্ষায় হাইকোর্টে রীটকারী কাউসার আহমেদ পলাশ এবার নিজের নামে না নিয়ে নিজেরই আরেক চ্যালা দিয়ে আলীগঞ্জ মাঠের টেন্ডার ড্রপ করান। উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী গরুর হাট ইজারার দিন উপজেলা পরিষদে কাউসার আহমেদ পলাশও উপস্থিত ছিলেন তার লোকবল নিয়ে। ইজারা সম্পন্ন হওয়ার পরে উপজেলা প্রশাসন ভবনে বসে সরকারী কর্মকর্তা ও নিজ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে মোড়গ পোলাউ ভোজের দৃশ্যটিও স্পষ্ট দেয় পলাশের নেপথ্য পরিকল্পনার বিষয়টি। আর তাই এ অবৈধ হাটের ইজারা বাতিলের দাবী নারায়ণগঞ্জবাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here