নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: কয়েকদিন পরেই ঈদ। তাই পরিবার নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দিনাজপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে রিকশা চালাতে এসেছেন দিনমজুর করিম মিয়া। পথঘাট না চিনলেও যাত্রীদের সহায়তায় গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সমস্যা হলো প্রধান সড়কেই ব্যাটারী চালিত রিকশা নিয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর আর কি, ট্রাফিক পুলিশের হাতে থাকা স্ক্রুর গুঁতোয় অচল হয়ে গেল তার রিকশার চাকাটি।

মঙ্গলবার (২০ জুন) সকালে নগরীর নিতাইগঞ্জ মোড়ে এমনই ঘটনা ঘটে। এরপর এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে রিকশা চালক করিম মিয়া উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

তবে শুধু করিম মিয়া নয়, তর মত অসংখ্য রিকশা চালক এখন দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে এক স্থান থেকে অন্য স্থান। সূত্রমতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্সধারী প্রায় ১১ হাজার রিকশা থাকলেও বর্তমানে বৈধর চেয়ে অবৈধ রিকশার দৌরাত্মই নগরীতে বেড়ে গেছে।

ফলে প্যাডেল চালিত রিকশা আর ব্যাটারী চালিত রিকশার দৌরাত্মক প্রতিযোগিতায় প্রধান সড়ক জুড়ে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এই যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের।
সরেজমিন দেখাগেছে, নগরীর প্রধন সড়কে যে স্থানেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তার শুরু থেকে শেষ অবধি অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে রিকশাই বেশী চোখে পড়ে। বাস ও রিকশা আলাদা লেনে চলাচলের জন্য সড়কের মাঝ খানে ডিভাইডার দেয়া থাকলেও রিকশা চালকরা যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই যাত্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছে।

অপরদিকে, ছোট্ট এই নগরীতে রমজান মাসে প্রচুর পরিমানে রিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বেশীর ভাগ রিকশা চালককেই যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে অনীহা প্রকাশের কারনে অতিরিক্ত দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তন্মধ্যে ভাড়া নিয়ে নিত্য তর্কবিতর্ক তো হচ্ছেই রিকশা চালকদের সাথে কিন্তু অবৈধ রিকশার দৌড়াত্ম বন্ধে নগরীতে সিটি কর্পোরেশনের অবৈধ রিকশা আটক অভিযান স্থবির হয়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাধারন যাত্রীরা।

তাই ঈদের পরই নগরীতে অবৈধ রিকশা আটক অভিযান শুরু করতে সিটি কর্পোরেশন কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন নগরবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here