নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বছর ঘুরেই জলাবদ্ধতা যেন ‘অভিশাপ’ হিসেবে রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর ডিএনডিবাসীর জীবনে। গত কয়েকদিন যাবত চলমান বৃষ্টি দূর্ভোগের মাত্রা যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রোঁদের মলিন হাসিতে যখন ক্ষত শুকাচ্ছিল ডিএনডির, তখন শ্রাবণের অঝোড় ধারায় বৃষ্টিতে ফের বাড়ী ঘরসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো প্লাবিত হয়ে গেছে।
কিন্তু প্রায় ২০ লাখ ডিএনডিবাসীকে ‘অভিশাপ মুক্ত’ করতে বর্তমান সরকার গত বছর একনেকে প্রায় ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প পাশ করলেও নানা কারনে তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

যেই কারনে এখন ‘অভিশাপ মুক্ত’ হতে সেনাবাহিনী দ্বারা প্রকল্প বাস্তবায়নটাকেই ‘ভরসা’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান প্রায় মাস খানেক যাবত জলাবদ্ধ অবস্থায় দূর্ভোগ পোহানো ডিএনডিবাসী। তাদের মতে ডিএনডির জলাবদ্ধতা দূরীকরনে সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, কেবল এটির সঠিক বাস্তবায়ন হলেই ভবিষ্যতে দূর্ভোগ মুক্ত হতে পারবে এই জোনের প্রায় ২০ লাখ অধিবাসী।

ডিএনডির প্রকল্প পরিচালক মো: আব্দুল আউয়াল জানান, ‘আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই ডিএনডির অভ্যন্তরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।’

ডিএনডি বাঁধ সংশ্ল্ষ্টি কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬২ সালে ইরি ধান চাষের জন্য ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমি নিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ তৈরি করা হয়। ৩২ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধ এলাকার ভেতরে ৫৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছেন।

শুরুতে বাঁধ এলাকার ভেতরে পাঁচ হাজার ৬৪ হেক্টরে সেচ প্রকল্প ছিল। পানি প্রবাহের জন্য ছিল কংস নদ এবং নলখালী খালের মতো ৯টি জলাশয় এবং আরও ৯টি শাখা খাল। এ ছাড়া ছিল আরও ২১০টি আউটলেট ও ১০টি নিষ্কাশন খাল। সব মিলিয়ে ১৮৬ কিলোমিটার ছিল খালের দৈর্ঘ্য। এগুলো ডিএনডির ইরিগেশন প্রজেক্টে সেচ খাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব খালের বেশিরভাগই দখল-দূষণে বিলুপ্ত। হারিয়ে গেছে কংস নদও। পানি প্রবাহের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত না থাকায় জলাবদ্ধতার বিপত্তি চরম মাত্রায় পৌঁছেছে।

ডিএনডি বাঁধ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশির দশকে বাঁধের ভেতর জমি কিনে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ শুরু করেন অনেকে। প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় খাল দখল ও ভরাট করেও স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। এতে পানি প্রবাহের মাধ্যম বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে অভিশাপের মতো চেপে বসেছে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সব।

২০১৫ সালে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ১০০ কিলোমিটার নিষ্কাশন খালের ৩৯ কিলোমিটারের আবর্জনা পরিষ্কারে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। সেই টাকা ফুরিয়েছে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়েই। দুই বছর আগে ডিএনডির সব খাল ও দখলদারদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা। কিন্তু সে নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এরপর ২০১৫ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রীকে নিয়ে ডিএনডি এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান। তারা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতিও শোনান। পরের বছর ডিএনডি সেচ প্রকল্প এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ৫৫৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।

কিন্তু প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। বরং আরও একাধিক স্থানে নিষ্কাশন পাম্প বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে কয়েক দফা বৃষ্টিতেই ডিএনডির নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বসত বাড়ী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ স্কুল-কলেজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে অবস্থিত ডিএনডি পাম্প হাউসের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার জানান, ‘একনেকে পাশ হওয়া প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সরকার বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর বিকল পাম্পগুলো সচলের চেষ্টা চলছে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here