নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কোন্দল প্রকট হওয়ায় দলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা অনেকটা বেশি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

ক্ষমতাসীনদলের নেতৃবৃন্দের মাঝে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকটি ঘটনা পর্যবেক্ষণে তা উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল নিরসনের ব্যাপারে কেন্দ্র উদ্যোগ নিয়েছেন বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, কখনো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে, কখনো ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে, আবার কখনো দলীয় পদ-পদবির লোভে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীকেও ক্ষতি করতে পিছপা হচ্ছেন না প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা।

আবার ঠিকাদারি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং জমি দখলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করতে গিয়েও কখনো কখনো ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক নেতাকর্মী। এ ছাড়াও স্থানীয় নির্বাচনে তৃণমূলকে উপেক্ষা করে প্রভাবশালী ও অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় নন এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ায় একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকেই। যার ফলে স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়লাভ করায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ আরো পোক্ত হচ্ছে ওই সব এলাকায়।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। টানা দুইবার ক্ষমতায় আছে। এত বড় দলের তৃণমূল পর্যায়ে ছোটখাটো কিছু মতদ্বৈততা থাকতেই পারে। তবে আমাদের দলে কিছু স্বার্থান্বেষী অনুপ্রবেশ করেছে। কিছু ভূঁইফোড় সংগঠন দাঁড় করিয়েও কিছু অনুপ্রবেশকারী এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বলেন, আওয়ামীলীগের মত বৃহত্তর একটি দলে সামাণ্য কোন্দল থাকতেই পারে। দলীয় কোন্দলে তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ একটু বিভক্তিতে ভুলে এটাও সত্য। তবে সময় আসলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং নির্বাচনে তাদেন স্ফতষ্ফুত উপস্থিত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী বলেন, আওয়ামীলীগের মত একটি বড় দলে কোন্দল থাকবে এবং তা সমাধান হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের দিক নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ। তাছাড়া দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে যেমনটাই দেখা যাক না কেন বাস্তবে তা ভিন্ন। এর প্রমান দলীয় কর্মসূচী পালনে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি এবং ঐক্যবদ্ধই এর প্রমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here