নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, আইভী কখনো মৃত্যকে ভয় পায় না। মৃত্যুকে হাতি নিয়েই আমি কাজ করি।
বুধবার (১৭ জানুয়ারী) দুপুর ৩ টায় নগর ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

মেয়র আইভী বলেন, ‘মঙ্গলবার আমি নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চাষাড়ায় যাচ্ছিলাম। তারপর চাষাড়া হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নিচে হকারদের বিষয়ে করনীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অবহিত করতাম। কিন্তু তারপূর্বেই সায়ামপ্লাজার সামনে পৌঁছা মাত্রই সন্ত্রাসী নিয়াজুল ইসলাম অস্ত্র উঁচিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। তখন আমার কর্মীরা তাকে বাঁধা দিতে চাইলে মুহুর্তের মধ্যেই শুরু হয় ইট বর্ষণ। যেই হামলায় আমি পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হই। আমার কয়েকশ কর্মী গুরুতর আহত হন।’

তিনি আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি হকারদের চারটি স্থানে বসার ব্যবস্থার কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। ডিসি এসপির সাথেও আমার কথা হয়েছিল। কিন্তু তার একদিন পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান ঘোষণা দিলেন, এটা তার অনুরোধ নয়, নির্দেশ, হকাররা ফুটপাতে বসবেই। কিন্তু এটা তো হতে পারে না। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে। আমি তো একটি চেয়ারের দায়িত্বে আছি। ঠিক আছে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে জনস্বার্থও দেখতে হবে, আবার মানবিক দিকও বিবেচনা করতে হবে। এজন্যই তো আমি হকারদের সেলিম ওসমানের অনুরোধে চারটি বিকল্প স্থানে বসার অনুমতি দিয়েছিলাম। অথচ, একজন সাংসদ হঠাৎ করেই অতিমানবিক হয়ে পড়েছেন।’

আইভী বলেন, ‘আমি একটি দায়িত্বশীল চেয়ারে আছি। তাই আমি অতিমানবিক হতে পারবো না।’

হকার ইস্যুতে তাহলে কি নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারনে মঙ্গলবার আধিপত্য বিস্তারে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের আইভী বলেন, ‘আমি বা আমার কর্মীরা সবাই ছিল নিরস্ত্র। যার ফলে তাদের ইট বর্ষনে আহত হতে হয়েছে। আমার ১৪ বছরের সার্ভিসে সবচেয়ে বেশী কষ্ট আমার সেজন্য হয়েছে। আমি আঘাত পেয়েছি কোন দু:খ নেই, কিন্তু আমার নিরীহ কর্মীদের উপর যেভাবে হামলা চালানো হলো, সেটা আমি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। এরজন্য অবশ্যই আমি আইনগত পদক্ষেপ নিব।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারী) নগরীর ফুটপাতে হকার বসাকে কেন্দ্র করে ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে মেয়রসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যাক্তি আহত হন। এঘটনান পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী দাবী করেন, শামীম ওসমানের নির্দেশেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আর শামীম ওসমান দাবী করেন, সড়কমন্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here