নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই রঙ পাল্টাচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়া থেকে শুরু করে আনুষ্ঠানিক প্রচারনায় আওয়ামীলীগ এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে এসে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে বড় চমকের অপেÿায় আছে বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপি’র প্রধাণ সমস্যা নিজেদের মধ্যেকার আভ্যন্তরিন বিভেদ ক্রমেই কমে আসছে, অপরদিকে আওয়ামীলীগের অদৃশ্য ফাটল ক্রমান্বয়েই বৃহৎ আকার লাভ করছে, যা নির্বাচনের সকল হিসেব নিকেশ উলট পালট করে দিতে পারে ধারনা বারের সাধারণ আইনজীবীদের।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ একেএম শামীম ওসমানের গত বছরের ঘোষনা অনুযায়ী এবারের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্যাণেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে এড. হাসান ফেরদৗস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার হাতে। নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় দল মত নির্বিশেষে ব্যাপক জনপ্রিয় এ দুই তরুণ আইনজীবীর মনোনয়নের বিপরীতে বিএনপি’র প্রার্থী অপেÿাকৃত দুর্বল হওয়ায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে অনেকটাই আত্মবিশ^াসী ছিলো আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সে আত্মবিশ^াসেও চিড় ধরতে শুরু করেছে বলে শংকা আওয়ামী শিবিরে। নারায়ণগঞ্জ বারের দুই হেভিওয়েট আইনজীবী নেতা এড. আনিসুর রহমান দিপু ও এড. খোকন সাহাকে জুয়েল-মোহসিন প্যাণেলের পÿে এক দিন ÿণিক সময়ের জন্য নির্বাচনী প্রচারনায় দেখা গিয়েছিলো, তারপর থেকে তাদের আর পাশে পাননি তারা, বরং দুরত্ব ক্রমেই নাকি দীর্ঘতর হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের আগে প্যাণেল পরিচিতি সভার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান পরবর্তী বার নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ প্যাণেলের সভাপতি পদে এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এড. মোহসীন মিয়ার নাম ঘোষনা করেন। সাংসদ শামীম ওসমান সেদিনের সেই ঘোষনার ধারাবাহিকতায় এবারের বার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডের সাথে বৈঠকে জুয়েল-মহসিনের প্রতি তার সমর্থণ অÿুন্ন রাখেন। যদিও সেই বৈঠকে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাসহ আওয়ামী পন্থী অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা সাংসদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন এবং বিকল্প প্রার্থীর প্র¯Íাব করেন। কিন্তু সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থণের পাশাপাশি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও এড. মোহসীন মিয়ার নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার প্রতিদান স্বরূপ তাদের হাতেই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতৃত্ব তুলে দেয় মনোনয়ন বোর্ড।

অপরদিকে, জুয়েল-মোহসিনের মনোনয়নে প্রতিপÿ বিএনপি সমর্থীত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্যাণেল গঠনে দেখা গেছে দায়সারা ভাব। গত বার নির্বাচনের পর থেকেই আদালত পাড়ায় শোনা যাচ্ছিলো জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী এড. জাকির হোসেন এবারে বিএনপি প্যাণেলের এক মাত্র সভাপতি প্রার্থী। এবারের মনোনয়নের দুদিন আগেও প্রচার করা হয়েছে সভাপতি পদে এড. জাকিরই বিএনপি’র সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী। কিন্তু জুয়েল-মোহসীন প্যাণেল ঘোষনার পরেই উল্টে যায় পাশার দান। এড. জাকিরতো দুরের কথা, সক্রিয় কোন সিনিয়র নেতাই আর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতায় রাজি হয় না। তখন সবাই মিলে এড. জহিরুল হককে দাড় করিয়ে দেন সভাপতি পদে। আর সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেয়া হয় এড. আবদুল হামিদ ভাষানীকে। যার গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে খোদ বিএনপি’র আইনজীবীদের মধ্যেই ধোয়াশা লÿ্য করা গেছে। ফলে জুলে-মোহসীনের মতো শক্তিশালী প্যাণেলের বিপরীতে জহিরুল-ভাষানী প্যাণেল ছিলো খুবই নড়বড়ে।

কিন্তু নির্বাচনী প্রচারনার শেষ দিকে এসে উল্টে যেতে থাকে সকল হিসেব নিকেশ। নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী এড. তৈমূর আলম খন্দকার সিনেট নির্বাচন শেষ করে নারায়ণগঞ্জ বার নির্বাচনের গন সংযোগে আসলে আদালত পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সিনিয়র এই আইনজীবীর গ্রেফতারে সকল ভেদাভেদ ভুলে বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা এক প্লাটফরমে দাড়িয়ে যান আর আসন্ন বার নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তৈমূরের উপর পুলিশি নির্যাতনের জবাব দেওয়ার শপথ নেন। একদিকে তৈমূর ইস্যুতে দ্বিধা বিভক্ত বিএনপি’র ঐক্য, অপরদিকে আওয়ামীলীগের অদৃশ্য ফাটল ক্রমেই দৃশ্যমান রূপ লাভ করায় আইনজীবীরা মনে করেন, শেষ মুহুর্তে উল্টে যেতে পারে পাশার দান!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here