নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের ৩ জন সিনিয়র সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ ধারায় ৩টি মামলা রুজু করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ও নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপারস ওনার্স এসোসিয়েশনের  সাবেক সভাপতি, জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক ডান্ডিবার্তার প্রকাশক ও সম্পাদক আলহাজ¦ হাবিবুর রহমান বাদল, ডিবিসি নিউজ চ্যানেল ও জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক নারায়ণগঞ্জের আলো পত্রিকার প্রকাশক রাজু আহম্মেদ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ বার্তার প্রকাশক সিফাত আল রহমান ও একই পোর্টালের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কচির বিরুদ্ধে আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ ধারায় ৩টি মানহানির মামলার অভিযোগ দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর ছোট ভাই আলী রেজা রিপন।
কিন্তু আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ ধারা অনুযায়ী পুলিশ বাদীর অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পেলে তা আমলে নিয়ে পুলিশ চাইলে মামলা রুজু করতে পারে। অথচ, কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই রিপনের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই সদর মডেল থানা পুলিশ আইসিটি আইনে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে নেয়। পরবর্তীতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্ধ্যায় থানায় এসে এজাহার বহিতে স্বাক্ষর করেন। এবং মামলার আসামীদের মামলার বিষয়ে অবহিত করেন।
এদিকে, আইসিটি আইনে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
তাহলে প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই আইসিটি আইনে পুলিশ চাইলে মামলা নিতে পারেন কিনা এবং যেসকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হবে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: মোস্তাফিজুর রহমান নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, থানায় কেউ অভিযোগ দিলে তা তদন্ত পূর্বক মামলা রুজু করার কোন বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ মামলা রুজু করবেন। তবে পরবর্তীতে যদি বাদীর অভিযোগ মিথ্যে হয় তাহলে পুলিশ অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
আর সাংবাদিকদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, যেহেতু আইসিটি আইনে মামলা দায়ের হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেন। সেহেতু আইন অনুযায়ীই পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।
মামলার প্রেক্ষিতে ডান্ডিবার্তার সম্পাদক আলহাজ¦ হাবিবুর রহমান বাদল নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা দায়েরের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে এই আইনের অপব্যাবহার শুরু হলো। নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যমকে কোনঠাসা করার প্রক্রিয়া শুরু করলো মেয়র আইভীর ভাই রিপন।
আর নারায়ণগঞ্জের আলোর প্রকাশক রাজু আহম্মেদ বলেন, মেয়র আইভীর ভাই উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে এই মামলা করেছেন। কিন্তু আমার বোধগম্য হচ্ছেনা পুলিশ বিনা তদন্তেই কিভাবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা রুজু করলেন। আমরা তো এই সমাজের অপরাধী কেউ না যে পলাতক থাকবো। যেহেতু আইন সবার জন্যই সমান, সেহেতু আমি যদি মানহানিকর কোন সংবাদ পরিবশেন করতাম তাহলে পুলিশ বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে মামলা রুজু করতে পারতেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে ‘প্রতারক নাছির স্বীকার করলেও সাড়ে চার কোটি টাকা বেহাত হওয়ার পরও রিপনের নিরবতা বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে মেয়র আইভীর ভাই রিপনের কোটি টাকার সন্ধানে মাঠে পুলিশ’ শিরোনামে দৈনিক ডান্ডিবার্তায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সংবাদ ভিন্ন শিরোনামে নারায়ণগঞ্জের আলোসহ জাতীয় দৈনিক যুগান্তরেও প্রকাশিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here