নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে কঠোর মনোভাবের কারনে দেশবাসীর কাছে সাহসী কণ্যা হিসেবে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
এবার ঠিক তার মতই সাহসী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে কঠোর হয়ে উঠছেন নারী কাউন্সিলররাও। যার ফলে সফলতাও দেখতে পান আইভীর মতো কঠোর হওয়া নারী কাউন্সিলররা।

যেমনটা দেখাগেছে, সম্প্রতি শহরের জিমখানা বস্তি উচ্ছেদ ও নবীগঞ্জে একটি ইমারত উচ্ছেদেও ক্ষেত্রে। যেখানে বাঁধার মুখেও পিছু হটেননি দুই নারী কাউন্সিলর। যা মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর নির্দেশনায় স্থানীয় ওয়ার্ডের পুরুষ কাউন্সিলরের সহযোগিতা ছাড়াই নিজেরা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সফল হন।

যার মধ্যে একটি হলো জিমখানা বস্তি উচ্ছেদ:

গত ২৯ জুলাই প্রতিরোধের মুখেও ৫০ বছরের বেশী পুরানো শহরের জিমখানা বস্তি উচ্ছেদে সফল হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।

ঐদিন সকাল ১১টায় শহরের জিমখানায় অবস্থিত বস্তিতে নাসিক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর নিদের্শে নাসিক ১৬, ১৭ ও১৮ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভার নেতৃত্বে স্থানীয় এলাকাবাসী ও নাসিক এর পরিচ্ছন্নকর্মীরা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়।

উচ্ছেদ অভিযানকালে প্রথমে বস্তিবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। পরে বস্তির ক্ষুব্ধ লোকেদের ইটপাটকেলে নিক্ষেপে নাসিকের তিনজন পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ স্থানীয় প্রায় ২৫/ ৩০ জন এলাকাবাসী আহত হন। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেনি উচ্ছেদ অভিযান। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে নিজেদের গৃহস্থালী সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হন বস্তিবাসী।

আর স্থানীয় ১৬ নং ওয়ার্ডের পুরুষ কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল ব্যতীতই নারী কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভা প্রতিরোধে মুখে পিছু না হটে বস্তি উচ্ছেদে সফল হওয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হন।

দ্বিতীয়টি হলো নবীগঞ্জে অবৈধ ইমারত উচ্ছেদ:

কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে, প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে এমনকি সন্ত্রাসীদের দ্বারস্থ হয়েও সরকারি রাস্তার উপর অবৈধভাবে নির্মিত পাকা ইমারত রক্ষা করতে পারেনি বন্দরের নবীগঞ্জ নোয়াদ্দা এলাকার অবৈধ দখলদার প্রবাসী রফিকের স্ত্রী শুটকীর বউ নামে পরিচিত বেপরোয়া নারী শ্যামলী।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী’র নির্দেশে ২২,২৩,২৪ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শাওন অংকনের নেতৃত্বে ২য় দফায় এখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এর আগে অসংখ্যবার দখল ছেড়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে নিজে ভবনটি ভেঙে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শ্যামলী করেছে দখল রক্ষা করার নানা অপচেষ্টা। করেছে এলাকার অসাধু মাতব্বরের বাহাদুরি। দিয়েছে আইন আদালতের হুমকি।

কিন্তু কাউন্সিলর শাওন অংকন হাল ছাড়েননি। মেয়রের কঠোর নির্দেশে ২য় বারের মত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ২৪ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ মৌজাধীন ৩২২ দাগের বেদখল হয়ে যাওয়া সরকারি হালটটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

কাউন্সিলর শাওন অংকনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘকালের রাস্তা সমস্যা সমাধান হওয়ায় নোয়াদ্দা এলাকাবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here