নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ছাড় দেয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে থাকা ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমান এমপি ইতিমধ্যেই আয়ত্তে আনতে সক্ষম হলেও এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের মহাজোটের আরেক প্রার্থী জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি।
জানাগেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি মহাজোট গঠন করে নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে নৌকার ও ২টিতে লাঙ্গলের প্রার্থী দিলেও এই লাঙ্গলের প্রার্থীদের আসন ছাড় না দেয়ার ক্ষেত্রে গত বছর থেকেই বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ।

কিন্তু গত ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ ও ৩ আসনে পুনরায় জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকাকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রদানের পর সেলিম ওসমান ঠিকই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগকে আয়ত্তে আনতে সক্ষম হন।

ইতিমধ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের সাথে করেছেন একাধিক মতবিনিময় সভা। মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে নামতে ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি গঠনসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

এরপর গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় বন্দরে ২৬ নং ওয়ার্ডের সোনাচড়াস্থ বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি এম এ রশীদের বাসভবনে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের নির্বাচনী মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সেলিম ওসমান।

যেখানে তিনি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি সেলিম ওসমান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছেড়ে কোথাও যাবো না, আওয়ামীলীগ ছাড়া কিছু বুঝি না। এই নারায়ণগঞ্জে আমার দাদার বাড়ীতেই আওয়ামীলীগের জন্ম। তাই আগামীতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে অবশ্যই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকবে।

এসময় বিগত সাড়ে বছরে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেলিম ওসমান আরো বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে করা আপনাদের অভিযোগ একেবারেই সত্য। গত সাড়ে ৪ বছরে সেলিম ওসমান কোন ব্যক্তির জন্য কিছুই করে নাই। কিন্তু সেলিম ওসমান কাজ করেছেন ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য, এলাকার অসহায় মানুষের জন্য, বন্দরের সাধারণ জনগনের জন্য, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য, বন্দর ও নবীগঞ্জ খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াতকারী বন্দরের লাখ লাখ মানুষের জন্য, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য, সাধারণ জনগনের জন্যই শুধু সেলিম ওসমান বিগত সাড়ে ৪ বছর কাজ করে গেছেন।

আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের প্রসংশা করে তিনি আরও বলেন, বন্দরে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সহযোগীতা করে ছিল বলেই কদমরসুল কলেজ ও আলমচাঁন উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরন করতে পেরেছি। বন্দর খেয়াঘাট দিয়ে ফ্রি যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ও ৫নংঘাট-ময়মনসিংহপট্টি দিয়ে পৃথক দুটি ফেরী সার্ভিস চালু করতে পেরেছি, বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫টি স্কুল নির্মাণ করতে পেরেছি। যার মধ্যে ৩ স্কুলেই বন্দরের সন্তানেরা সম্পূর্ন বিনা খরচে লেখাপড়া করতে পারছেন। লাঙ্গলবন্দে হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন করতে পেরেছি। শীতলক্ষ্যা নদীতে মদনগঞ্জ দিয়ে নাসিম ওসমান সেতুর কাজ শুরু করতে পেরেছি। শান্তিরচরে ১৫০০ একর জমির উপর নীটপল্লী স্থাপনের কাজ শুরু করতে পেরেছি যেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং সেখানে বন্দরের স্থানীয়রাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুযোগ পাবে। আমার প্রতি কাজে আমার পাশে ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদ ভাই এবং জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের ভাই। গত সাড়ে ৪ বছর রশিদ ভাই প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষদের জন্য একটা না একটা কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। যার জন্য আপনাদের সহযোগীতায় এসব কিছু বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। আমি গর্বিত যে আওয়ামীলীগের তৃনমূলের কর্মীরা নিজেদের জন্য কিছুই চান না। তাঁরা শুধু ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য, এলাকার উন্নয়ন আর দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যান। আমার শরীরে শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাথে থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ করে যাবো।

সেলিম ওসমান আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা বলছেন বন্দরে আওয়ামীলীগের কার্যালয় নাই। কিন্তু আপনারা কি বন্দর কিংবা শহরে জাতীয় পার্টির কোন কার্যালয় দেখাতে পারবেন? আপনারা আমাকে জায়গা দেন আমি আপনাদের অবশ্যই একটি আধুনিক কার্যালয় করে দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

একাদশ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পাওয়ার পরে এভাবেই জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দদের আগলে নেয়ায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও তাঁর পক্ষেই মাঠে নামার ঘোষণা দেন।

আর আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামবে জেলা আওয়ামীলীগ বলে জানান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল।

কিন্তু বিপরীতে, মহাজোটের মনোনয়ন পেলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের লাঙ্গলের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা এখনো জেলা আওয়ামীলীগ বা স্থানীয় সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সাথে বৈঠকে বসেন নি।

যার ফলে গত ৩ ডিসেম্বর শহরের দুই নং রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে খোকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া ও সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ মাহফুজুর রহমান কালাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here