নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: অসাম্প্রদায়িক চেতনায় নারায়ণগঞ্জবাসী অনাড়ম্বরে প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন করলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ বর্ষবরণে কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে তৃণমূল।
অপরদিকে, পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারবাহিকতায় বর্ষবরণে নিজ বাড়ীতে মেজবানীর আয়োজন করেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমূর।

জানাগেছে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষ বাঙালীর প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ। যা উদযাপনে শনিবার (১৪ এপ্রিল) সরকারী ভাবে এবং (১৫ এপ্রিল) বেসরকারী ভাবে নববর্ষ উদযাপন করে নারায়ণগঞ্জবাসী।

কিন্তু এই নববর্ষ উদযাপনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ কোন অনুষ্ঠান আয়োজন না করায় ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশা প্রকাশ করেছে তৃণমূল। তবে নববর্ষ উপলক্ষ্যে কেউ কেউ শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন, পোস্টার সাঁটালেও দলীয় নেতাকর্মীদের বিনোদনের লক্ষ্যে আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় থেকে শুরু করে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তেমন কোন আয়োজন না করায় অনেকটাই মনক্ষুন্ন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

তাদের মতে, অত্যন্ত পক্ষে নির্বাচনী বছর হিসেবেও দলীয় নেতাকর্মীদের একত্রিত ভাবে বিনোদনের লক্ষ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু তারা সেটা না করে নিজেদের ঘরে বসে নববর্ষ উদযাপন করেছেন।

এদিকে, অন্যান্য বছর জেলা প্রশাসন আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও এবছর সেই অনুষ্ঠানেও শীর্ষস্থানীয় কাউকে দেখা যায়নি। এমনকি অনুপস্থিত ছিলেন, খোদ এমপিরাও।
অপরদিকে, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্মানার্থে রূপগঞ্জের পৈত্রিক বাড়ীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার ১৪ এপ্রিল বর্ষবরণ উদযাপনে প্রায় ২০ হাজার লোকের মেজবানীর আয়োজন করে উল্টো হয়েছেন সমালোচিত।

কারন হিসেবে একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে কারাবন্দি থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা ‘মা’ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে যখন সোচ্চার হয়ে উঠছেন, তখন সেই ‘মা’ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে তৈমূর আলমের মত একজন বিচক্ষণ নেতার বৈশাখী মেজবানীর আয়োজন করা কখনো সমুচিত হয়নি। দলের দুর্দিনে কারাবন্দি নেত্রীর কারনে সকলের যখনভারাক্রান্ত, তখন এমন আনন্দ উৎসব করে তৈমূর আলম নেতাকর্মীদের সাথে উপহাস করেছেন।

তবে আসলেই এবছর মা খালেদা জিয়া কারাগারে থাকা সত্বেও বৈশাখী উৎসব করাটা উচিত হয়েছে কিনা, আর মামলায় বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের কিছুটা আনন্দ প্রদান করে উল্টো সমালোচিত হওয়ার বিষয়টি কিভাবে দেখছেন তিনি- এব্যাপারে জানতে এড. তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে রবিবার বিকেলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রসিভি করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here