নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ আদালতে আওয়ামীলীগের শোডাউনে কোন্দলে বিপর্যস্ত বিএনপি’র আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মাঝে যে বিভেদ ছিলো, আওয়ামীলীগের এ আচরনের প্রতিবাদে সে বিভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে এসে দাড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন কতৃক দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী শোডাউন করায় বিএনপি’র দুই গ্রুপের আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে আদালত পাড়ায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজিত সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীদের সুনাম শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশে^ সমাদৃত। সাত খুন মামলায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীদের সাহসীকতাপূর্ণ অবদানের জন্য পৃথিবীব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ আদালত। আর নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচন একটি সুশৃঙ্খল নির্বাচন। অন্য সংগঠনগুলো এখান থেকে অনেক ভালো কিছু কিছু সংগ্রহ করতে পারে। সে নির্বাচনে বহিরাগতদের দিয়ে পেশী শক্তির প্রদর্শণ করা হলে আইনজীবীদের ইমেজকে ক্ষুন্ন করা হয় এবং ভবিষ্যত রানীতির জন্য এটা একটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিবে।


এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আইনজীবীরা অংশ নেয়, আইনজীবীরাই প্রচারনা চালায়। কিন্তু আজ আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম বহিরাগতরা এসে নির্বাচনের প্রচারনার নামে ভয় ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করছে। আর ্এত করে সাধারণ আইনজীবীরা তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পরছে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ কলঙ্কিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপ তৎপরতা মানবে না, প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো নির্বাচনের পরিবেশকে কলুষিত করার এহন অপচেষ্টা রোধ করতে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। তারপরও নির্বাচনের পূর্ব দিন পর্যন্ত প্রতিটি আইনজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে সমন্বয় করে নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানাবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবীর বলেন, এটা হকারদের নির্বাচন না, এটা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এখানে যারা নির্বাচন করে তারা সবাই সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ^াসী। এখানে নির্বাচনের জন্য মিটিং মিছিলে অংশ নেবে আইনজীবীরা। কিন্তু বহিরাগতদের দিয়ে এভাবে শোডাউন করে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ধ্বংস করার পায়তারা করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যদি আগামী নির্বাচন কোন ধরনের টেম্পারিং করা হয়, তাহলে এখান থেকেই বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এড. আবদুল হামিদ ভাষানী বলেন, আদালতের মতো একটি পবিত্র স্থানে বহিরাগতদের দিয়ে শক্তি প্রদর্শনের ঘটনাকে ধিক্কার জানাই। এটা সাধারণ আইনজীবীদের প্রতি হুমকি স্বরূপ। তারা এর মাধ্যমে আগামী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জবরদস্তি করার পূর্বাভাস দিয়ে গেলো। তাই এ ধরনের হীন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাতে আজ আমরা আমাদের সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছি। বর্তমানে জাতির এক চরম ক্রান্তিকালে নিজেদের মধ্যেকার সকল দ্বন্দ আজ আমরা ভুলে গিয়ে দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্নে আমরা কোন ছাড় দেবো না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক এড. এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপিকে দমন করতে আওয়ামীলীগের এটা একটা কৌশল মাত্র। আগে এড. খোকন সাহার মাধ্যমে শামীম ওসমান বিএনপিকে দমন করতো, এখন খোকন সাহার সাথে তার রাজনৈতিক দুরত্বের কারনে এড. জুয়েলকে খোকন সাহার বদলে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। শামিম ওসমানের নতুন হাতিয়ার হিসেবে এড, জুয়েলের আত্মপ্রকাশ ঘটলো আজ এ শোডাউনের মাধ্যমে। কিন্তু কোন পেশী শক্তির ভয়েই নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপি’র আইনজীবীরা পিছপা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। আদালতের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে আমরা কোন ছাড় দিতে রাজি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here