নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আকর্ষিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। আগামী বছরের জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্যানেলে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, এনিয়ে আদালত পাড়ায় চলছে নিত্য আলোচনা।
আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল থেকে ১৭ টি পদের মধ্যে কাঙ্খিত পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহনেচ্ছু সম্ভাব্য প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যসহ সিনিয়র আইনজীবীদের লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ প্রার্থীতা নিশ্চিত ভেবে গোপনে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারনা।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন বার্ষিক (২০১৭-১৮ইং) নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে একাধিক আইনজীবীর নাম শোনা গেলেও সবচেয়ে বেশী আলোচিত হচ্ছে, গত বছর নির্বাচনের পূর্বে সাংসদ শামীম ওসমানের ঘোষিত সভাপতি পদপ্রার্থী এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী এড. মোহাম্মদ মহসীনের নাম। যেই আশায় এখন আসন্ন নির্বাচনে দলের সমর্থিত প্রার্থী হতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জুয়েল-মহসীন।

কিন্তু তাদের সেই আশা এবছর পূরণ করা দু’টি কারনে অনেকটাই ক্ষীন বলে দাবী করেছেন আওয়ামীপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা।

কারন হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘মূলত গত বছর এড. আনিসুর রহমান দিপু ও এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দলের প্যানেল বিজয়ের লক্ষ্যেই সাংসদ শামীম ওসমান সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে এড. মোহাম্মদ মহসীনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে অনেক সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকের মন জয় করতে হয়। ঠিক তেমনটাই হয়েছিল তখন ঘোষণার ক্ষেত্রে।’

তারা আরো বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে জুয়েল-মহসীন প্যানেল গঠনে আরেকটি সমস্যার কারন হচ্ছে বাঘা বাঘা আইনজীবীদের গুরু নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. আসাদুজ্জমানের সভাপতি প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাওয়ায় এবং আইনজীবী সমিতির রীতি অনুযায়ীই একবার সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত ব্যাক্তি পরের বছরও নির্বাচনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাওয়ায়। যার ফলে অতীত নির্বাচনের হিসেব কষলে আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের প্যানেল থেকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারন সম্পাদক এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলুই প্যানেল গঠনের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র আইনজীবীদের কাছে প্রাধান্য পাবেন।’

সেই ক্ষেত্রে আসন্ন নির্বাচনে জুয়েল-মহসীনের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের প্যানেল গঠন সম্ভবকর নাও হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সিনিয়র আইনজীবীরা।

এদিকে, আওয়ামীলীগের প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ-উর-রউফ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আব্দুর রশিদ ও সোনারগাঁ থানা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এড. কামরুল ইসলামের নাম শোনা গেলেও আইনজীবীদের অনেকেরই ‘গুরু’ এড. আসাদুজ্জামান যদি নির্বাচনে শেষতক সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত ভাবেই মনস্থির করেন, তাহলে তার সম্মানার্থে আসন্ন নির্বাচনে কেউ আর প্রার্থী হবেন না বলে জানান, আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী একজন হেভীওয়েট নেতা।

আর (২০১৬-১৭ইং) বর্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় কর্মকান্ডেও ভূমিকা রাখায় আগামী নির্বাচনে পুনরায় সাধারন সম্পাদক পদে তার মনোনয়ন প্রাপ্তিতে কোন বাঁধা নেই বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী পন্থী একাধিক আইনজীবী নেতা। কারন, পলু এক বছরে সমিতির ১ কোটি ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৩শ’ টাকা আয় দেখিয়েছেন।

সেই ক্ষেত্রে আসাদুজ্জামান-পলুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের প্যানেল গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী বলে ধারনা আওয়ামী পন্থী আইনজীবীদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here