নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতি মানেই আগে দু’জনকে বিবেচনা করা হতো।
যার মধ্যে একজন ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। অপরজন, মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান।

মূলত আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় থেকে সহযোগী সংগঠন গুলোর তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা এই দুই নেতার অনুসারী হিসেবেই বিভক্ত ছিল।

কিন্তু রাজনৈতিক শিষ্য খ্যাত শামীম ওসমান ও আইভীর সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার কারনে নতুন করে এখন আওয়ামীলীগে তৈরী হয়েছে আরেকটি বলয়। আর এই বলয়ের নেতা হচ্ছেন, তাদেরই রাজনৈতিক গুরু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন।

যিনি গত বছর ডিসেম্বরে বিনা ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার শিষ্যদ্বয় শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার চলমান দ্বন্দ নিরসনের উদ্যোগ নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

কিন্তু শিষ্যদ্বয়ের মাঝে মনমালিন্যের অবসান ঘুঁচাতে গিয়ে আনোয়ার হোসেন উল্টো নিজেই তাদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন।

গত বছরের ডিসম্বেরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে প্রথম সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন, শিষ্য আইভীর সাথে।

এরপর, গত জুলাই মাসে একটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শিষ্য শামীম ওসমানের সাথে বিরোধে জড়ান।

তারপরই মূলত নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ত্রি-বিভক্ত হয়ে যায়। কিন্তু তৃণমূলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে জনপ্রিয়তা বেশী কার আছে? শামীম ওসমান, আইভী নাকি আনোয়ার হোসেনের।

যদিও এক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কান্ডারী হিসেবে একবাক্যে সাংসদ শামীম ওসমানের নামই চলে আসে। কারন, তিনি এমনই একজন নেতা, যার ডাকে রাজপথ থেকে সমাবেশস্থল, সর্বত্রই দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। যা কিনা আদৌ আওয়ামীলীগের অন্যান্য কোন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধির দ্বারা পরিলক্ষিত হয়নি।

কিন্তু তারপরেও সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে যোগদানসহ শহরের গন্ডি পেরিয়ে এখন জেলার অন্যান্য স্থানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী তার রাজনৈতিক পরিধি বাড়াতে শুরু করায় এবং শামীম আইভীকে ত্যাগ করে নিজ বলয় গড়ে তোলার পর এখন স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে কার জনপ্রিয়তা বেশী আছে, তা শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামীলীগ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে যোগদানকৃত নেতাকর্মীদের পরিসংখ্যান দেখলেই প্রমাণিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন, তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

কারন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের যোগদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়াসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন, আনোয়ার হোসেন, আইভী ও শামীম ওসমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here