নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মানবরূপী ‘শকুনের’ পর এবার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে থাকা ‘ছুরি’ মারা লোকের সন্ধান পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের হেভীওয়েট সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান। যেই কারনে তিনি বাংলা প্রবাদের মত ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অর্থাৎ স্থানীয় আওয়ামীলীগে এখন দুষ্ট লোকের অবস্থান মিলেছে। যারা দলে থাকলে দলের মঙ্গলের চেয়ে খারাপটাই বেশী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই সকল দুষ্ট লোকের থাকার চেয়ে দলে যদি নেতাকর্মীর পরিমান কমেও আসে তাহলেও ভাল লোক অল্প থাকলেই তারা দল তথা নেতৃবৃন্দদের জন্যও নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করবে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ‘কাউয়া, ‘হাইব্রীড’, ‘শকুন’সহ এসকল ‘ছুরি’ মারা লোক কারা? যেহেতু দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা এসকল অপশক্তিরা দল তথা নেতাকর্মীদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, সেহেতু তাদের দ্রুত চিহিৃত করনে কেন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না- এমন অনেক প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে তৃণমূলে।

তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কান্ডারী পুরুষ সাংসদ শামীম ওসমান চাইলেই দলের মধ্যে থাকা এইসকল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতেন পারেন। তাই শামীম ওসমানকেই আওয়ামীলীগে থাকা ‘বেঈমান’, ‘ষড়যন্ত্রকারী’ ‘কাউয়া’, ‘হাইব্রীড’, ‘শকুন’সহ দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টিকারীদের বিতারিত করার উদ্যোগ প্রথমে নিতে হবে। আর তৃণমূল নেতাকর্মীরা এজন্য শামীম ওসমানের হাতকে আরো শক্তিশালী করতে সর্বদা পাশে থেকে কাজ করবে।

গত ১২ অক্টোবর জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাংসদ শামীম ওসমান তার বক্তব্যে আরো বলেছিলেন, ‘দেশী বিদেশী এসব ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা অপশক্তিরাও সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগেও ভিতর থেকে ছুরি মারা লোক জন্মেছে। তাই দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল অনেক ভালো।’

কেননা, এরআগে কয়েক মাস পূর্বে জেলা ও মহানগর যুব মহিলালীগের পাল্টা কমিটি গঠন নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, যুব মহিলালীগ জেলা প্রথম কমিটির আহবায়ক লিন্ডা ও মহানগর আহবায়ক নুরুন্নাহার সন্ধ্যা।

সাংসদ শামীম ওসমান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয়ার কারনে আনোয়ার হোসেন, এড. খোকন সাহা ও এড. মাহমুদা মালাকে আওয়ামীলীগের বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল। একপর্যায়ে তাদের দল থেকে একঘরা করারও প্রস্তাব উঠে।

পরবর্তীতে শোক দিবসের একটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগে এখন ‘শকুন’ প্রবেশ করেছে। এরা দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে। তাই তাদের ব্যাপারে তৃণমূলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।’

এছাড়াও সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানকে খোকন সাহা ও মাহমুদা মালার অশ্লীল ভাষায় গালাগালের অডিও টেপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর দল থেকে তাদের বিতাড়িত করার দাবীও উঠেছিল তৃণমূলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here