নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আধিপত্য বিস্তারের কারনে মূলত ক্ষমতাসীন দলেই বেশী বিভাজন থাকে। যার প্রভাব গিয়ে পড়ে অঙ্গ সংগঠন গুলোতেও। যেমনটি নারায়ণগঞ্জ জেলার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিরাজমান ছিল। কিন্তু এখন সেই ক্ষমতাসীন দলে বইতে শুরু করেছে ঐক্যের সুবাতাস। অতীত মান অভিমান ভুলে এখন একত্রিত হচ্ছেন আওয়ামীলীগের এমপিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু শত চেষ্টা করেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। মুখে নেতারা ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে একজন আরেকজনকে যেন সহ্যই করতে পারেন না। আর সাম্প্রতিক সময়ে জেলা ও মহানগর বিএনপিতে এই বিভাজনের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। তাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মত আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতেও ঐক্যের অপেক্ষায় রয়েছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

জানাগেছে, বরাবরই বিভিন্ন সভা সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে আসছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ¦ একেএম শামীম ওসমান, আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ হেভীওয়েট নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু নানা ইস্যুতে খোদ এই সকল শীর্ষ নেতাদের মাঝেই ছিল বিরোধ। আর গত বছর ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত যেই বিভাজন ছিল সকলের মাঝে দৃশ্যমান। যার নেপথ্যে কোন না কোন ভাবেই শামীম ওসমানের নাম উঠে আসতো।

অবশেষে সকল মান অভিমান ভুলে শামীম ওসমানের আহ্বানে গত ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর’ সমাবেশে একমঞ্চে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা পাশাপাশি বসে সকলেই একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে অবশেষে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে ঐক্যের পথ সৃষ্টি হয়েছে। আর যদি সিটি মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীও শামীম ওসমানের সাথে আর অভিমান করে না থেকে একত্রিত হন তাহলে সেদিনই হবে আওয়ামীলীগ প্রকৃতপক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলে আশা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতৃবন্দ।

তাই তাদের দাবী, ১৫ অক্টোবর থেকে ঐক্যের পথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শুরু হওয়া যাত্রা যেন আর কোন বাঁধার কারনে বিভক্ত হয়ে না পড়ে। যদি এই ঐক্যের পথের সহযাত্রীরা সত্যিকার অর্থেই একতাবদ্ধ থাকেন, তাহলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে কোন আসনেই ‘নৌকার’ প্রার্থীকে কেউ পরাজিত করতে পারবেনা।

অপরদিকে, কাজী মনিরুজ্জমানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি এবং এড. আবুল কালাম কে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে শুরু হয় বিভাজন।

কমিটি ঘোষণার আগে, নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ নেতাদের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সাবেক সাংসদ আলহাজ¦ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ চিঠি পাঠালেও কমিটি ঘোষণার পরেই তিনি জেলা বিএনপির নতুন কমিটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। শুধু গিয়াসই নয়, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারও খোদ দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বকে অযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে কমিটি পুনর্গঠনের দাবী জানান।

এছাড়াও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আবু ইউসুফ খান টিপু।

এছাড়াও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহ্ আলমের সাথে গিয়াস উদ্দিনের, সোনারগাঁয়ের সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম গ্রুপের, আড়াইহাজারে আতাউর রহমান আঙ্গুর, বদিউজ্জামান খসরু ও নজরুল ইসলাম আজাদ, রূপগঞ্জে এড. তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান গ্রুপে বিভাজন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here