নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দেরীতে হলেও নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং বহু বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে বিএনপিতে চলতি বছর নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি হলেও কোনক্রমেই যেন মাথাচড়া দিয়ে উঠতে পারছেনা কাগুজে কলমে থাকা দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
বিশেষ করে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিটি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি রাজনীতির মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে বিভিন্ন কৌশলে এগিয়ে যেতে থাকলেও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অভাবে দিনকে দিন উল্টো রাজনীতির মাঠ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নানা বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠলেও খোদ দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ দুই দফায় নারায়ণগঞ্জে এসে আগামী নির্বাচনে তিনটি সংসদীয় আসনে দলীয় এমপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে সবাইকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়ে যাওয়ায় পরেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জাগ্রত হতে পারেনি।

ফলে শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা নেতাদের ব্যর্থতার কারনে দিনকে দিন ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছে বিগত সময়ে রাজপথে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা জাতীয় পার্টির অসংখ্য নেতাকর্মী। বিশেষ করে বিগত ২০১৪ সালের ৩০ জুন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর উক্ত আসনে তার অনুজ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ একেএম সেলিম ওসমান নির্বাচিত হয়ে শহরের বুকে থাকা প্রয়াত ভাইয়ের নিজ ভবনে থাকা দলীয় কার্যালয়টি বন্ধ করে দেয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিতে দৈন্যদশার সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

যার ফলশ্রুতিতে অতীতে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দরা একজোট থাকলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা জাতীয় পার্টির স্থানীয় এমপিসহ খোদ দলকে নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মুখ বুঝে শোনা ব্যতীত কোন প্রতিবাদ জানানো কিংবা প্রতিউত্তর দিতে পারছেনা জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে থাকা নিষ্ক্রিয় নেতৃবৃন্দরা।

তাই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির একক কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখতে দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শীঘ্রই জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি নগরীতে একটি দলীয় কার্যালয় গড়তে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সাংসদ আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় আগামীতে এমপি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, দলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই দু:সাধ্যকর হয়ে পড়বে বলে শংকা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

জানাগেছে, প্রায় দেড় যুগ পর গত বছরের ৯ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইকে সভাপতি, ডা: সেলিনা হায়াত আইভীকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের তিন সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণার বছর খানেক পর চলতি বছরের গত ২৫ নভেম্বর ৮১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তারপূর্বে বিগত ২০১৩ সালে আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও এড. খোকন সাহাকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
যার ফলে নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে এখন পরিপূর্ণ নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হওয়ায় আরো সুসংগঠিত ভাবে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

তবে শুধু আওয়ামীলীগই নয়, বহু বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা হামলার শিকার হয়ে অগণিত বার কারাভোগ করলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারন সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি এবং এড. আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর নতুন নেতৃত্বে আসা নেতৃবৃন্দরাও এখন নিজ দলের পদবঞ্চিত নেতাদের কাছ থেকে বিদ্রুপ মন্তব্য শোনেও দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে জোরালো ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে নিজেদের চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বর্তমানে দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের সাথে সখ্যতা গড়ে থাকা নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি।

নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কর্মী বান্ধব কান্ডারী সাংসদ নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর যখন ক্রমেই দলীয় কার্যালয়হীন হয়ে অস্তিত্ব সংকটের মুখে বিলীনের পথে ধাবিত হচ্ছিল দলটি, তখন দলীয় নেতাকর্মীদের দাবীর মুখে চলতি বছরের গত জুলাই মাসে নারায়ণগঞ্জে একটি দলীয় কার্যালয় করতে এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ লিয়াকত হোসেন খোকা ও জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আবুল জাহের কে দায়িত্ব দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি পুনগর্ঠন তো দূরের কথা, শহরের মধ্যে একটি দলীয় কার্যালয় করতে বাসা ভাড়া নিতেও পারেনি।

অথচ, বছরের পর বছর যাবত ক্ষমতার বাইরে থাকলেও শহরের বুকে থাকা নিজেদের দলীয় কার্যালয় হারিয়েও পথভ্রষ্ট হয়নি বিএনপি। বরং সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা বিএনপির এবং শহরের কালীবাজারে মহানগর বিএনপির নতুন অস্থায়ী কার্যালয় গড়ে দলীয় সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালনা করে আসছে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। এছাড়াও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারের বাসভবন, সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন তার বাসভবন, ফতুল্লায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পতি শাহআলমসহ একাধিক নেতৃবৃন্দ নিজেদের বাসস্থান কিংবা কর্মস্থলকেই দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তরিত করে সাময়িক ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

যা কিনা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দদের মাঝে আদৌ পরিলক্ষিত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here