নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে প্রায় দু’বছর যাবত কতটাই না পরিশ্রম করেছিলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিরোধী দল বিএনপির সম্ভাব্যরা।
বিশেষ করে, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) ও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাতীয় পার্টিকে আর আসন ছাড় না দেয়ার লক্ষ্যে গত বছরের শুরু থেকেই দাবী আদায়ে মাঠে নেমে পড়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ। বিগত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ছাড় দেয়া এই দু’টি আসনে লাঙ্গলের জোয়ালের ভার আর নৌকার কর্মীরা সইতে পারছেনা মন্তব্য করে এখানে লাঙ্গলকে আর ছাড় না দিয়ে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবীতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা চালিয়েছিলেন প্রাণপন চেষ্টা।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় উক্ত দু’টি আসন থেকে আওয়ামীলীগের প্রায় দুই ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষতক তাদের সকল শ্রম পন্ডশ্রম হয়ে যায় মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নারায়ণগঞ্জের এই আসনে সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকাকে লাঙ্গলের মনোনয়ন প্রদানের পর।

আর তাই দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক এখন মহাজোটের দুই প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনের মাঠে নামতে যাচ্ছেন আওয়ামীলেিগর মনোনয়ন বঞ্চিত সম্ভাব্য প্রার্থীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা।

অপরদিকে, আওয়ামীলীগের মতই অবস্থা হয়েছে বিএনপিরও। বছরের পর বছর যাবত রাজপথে সরকার বিরোধী নানা আন্দোলন মামলা হামলার শিকার হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রচেষ্টায় দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও শেষতক রাজপথের ত্যাগীদের পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের ধানের শীষের মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও প্রথমে কালাম ও খোরশেদকে ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র দেয় বিএনপি।

একই সাথে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম ও ২০ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারন সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহম্মেদকেও মনোনয়ন পত্র দেয়া হয়।

কিন্তু শেষতক চূড়ান্তভাবে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এস এম আকরামকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রদান করে বিএনপি।

অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনেও ধানের শীর্ষ প্রত্যাশায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও হেভওয়েটদের মধ্যে প্রথমে মনোনয়ন বঞ্চিত হন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ। তবে উক্ত আসনে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও সহ-সভাপতি শাহ আলমকে মনোনয়ন পত্র প্রদান করা হলেও শেষতক ঐক্যফ্রন্টের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী।

ফলশ্রুতিতে, বিএনপির সকল শ্রম পন্ডশ্রম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here