নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বলেছেন, ‘আমাদের দেশের যুবকরা মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। যার কারনে এখন শংকা তৈরী হচ্ছে, তাহলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠন করবে কে! তাই আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে এদেশের মেয়েরা। মেয়েদের উপর ভর করেই এদেশের অর্থনীতি একদিন মাথা তুলে দাঁড়াবে। আর সেজন্য প্রতিটি মেয়েকেই পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে।’
বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও নব নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধাণ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে স্কুল মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া আরো বলেন, ‘মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের অবশ্যই থাকতে হবে, তবে সবার আগে নিজেকে ভালবাসতে হবে। নিজের প্রতি ভালোবাসা থাকলে কেউ মাদক, সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদের সাথে জড়াবে না। কারন এসব কিছুর সাথে সাথে জড়িয়ে গেলে ধীরে ধীরে নিজেকেই ধ্বংস করে দেবে।’


স্কুলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা অর্জণ করলেই চলবে না। তোমাদেরকে সঠিক জ্ঞান অর্জণ করতে হবে। কারন কোথাও বলা হয়নি যে শিক্ষাই শক্তি বরং বলা হয়েছে জ্ঞানই শক্তি। তাই তোমরা প্রকৃত জ্ঞান আহরণ করলে সাফল্যের শিখরে পৌছাতে পারবে। আর এজন্য তোমাদেরকে পিতা মাতার প্রতি সম্মান ও সেবা প্রদর্শণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ পৃথিবীতে পিতা মাতার চেয়ে আপন কেউ নাই। পিতা মাতার পর সম্মান দেখাতে হবে শিক্ষকদের প্রতি। কারন শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমাদেরকে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর জীবনে সফলতা লাভ করতে হলে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এ জীবনটা ঘুমিয়ে কাঁটানোর জন্য নয়, মৃত্যুর পর অনন্তকাল ঘুমানোর সময় পাবে। তাই যতদিন বাঁচবে, চেষ্টা করবে এ পৃথিবীতে কিছু অনুকরণীয় রেখে যেতে, যাতে তোমার চলে যাওয়ার পর তা অন্যের অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।’

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রধাণ শিক্ষক সফিউল আলম খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য এম এ রাসেল। উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খালিকুজ্জামান ভূইয়া, অভিভাবক সদস্য ডা: আশরাফুদ্দিনসহ স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আলোচনা পর্ব শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here