নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ার সুবিদার্থে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় এমপি মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় বেশ আটঘাঁট বেঁধেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের চেয়েও কমিটি গঠনে নিজের ক্ষমতা জাহির করতে পারায় নজরুল ইসলাম আজাদ স্বল্প সময়েই বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছিলেন। তবে অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে যে তিনি নিজেকে প্রয়াত অরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলার সাথে সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে নিজেকে জিয়া পরিবারের স্বঘোষিত সদস্য পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কমিটি গুলোতে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের অধিষ্ঠিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন।

আর তাই নজরুল ইসলাম আজাদ নিজ এলাকায় ফাঁকে ফাঁকে দলীয় কর্মসূচী পালন করলেও অর্থের প্রভাব থাকায় স্থানীয় আড়াইহাজার থানা পুলিশও তাকে কোনরূপ বাঁধা দিতেন না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা।

কিন্তু এবার বিধি বাম! গত ৫ ফেব্রুয়ারী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট সফরকালে মহাসড়কে শো ডাউনের প্রস্তুতি নেয়ার সময় পাঁচরুখীর নিজ বাড়ীর সামনে দন্ডায়মান স্থানীয় থানা পুলিশ তার কর্মীসমর্থকসহ তাকে কিছু না করলেও শেষতক জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে নজরুল ইসলাম আজাদকে আটক করে নিয়ে আসে।

এরপর আড়াইহাজার থানায় তাকে প্রধান আসামী করে নাশকতার দায়ে একটি মামলা দায়েরের পর আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরন করেন। তারপর পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত একদিনের মঞ্জুর করেন। সর্বশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উক্ত মামলায় তার জামিন প্রার্থণা করা হলে বিচারক মো: আনিসুর রহমান তা নামঞ্জুর করেন।

ফলে অপ্রত্যাশিত কারাবাস আরো কয়েকদিন কাটাতে হবে আজাদকে বলে মন্তব্য করেন তার কর্মী সমর্থকরা। কারন, আজাদ রাজনীতি করলেও কখনো কারাগারে যাওয়ার কথা চিন্তা করেন নাই।

এরআগেও আড়াইহাজারে নজরুল ইসলাম আজাদ একটি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হলেও হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়ায় তাকে কারাগারে যেতে হয়নি।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবও কখনো প্রত্যাশা করেননি যে, দুপুরের খাবার টেবিল থেকে পুলিশ তাকে অযথাই আটক করে উল্টো তারই বাসায় বসে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে। আর সেই মামলায় তাকেও দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হবে।

কিন্তু শেষতক সেটাই হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারী বিকেলে শহরের মিশনপাড়াস্থ বাসা থেকে সদর মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৫ ফেব্রুয়ারী তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ আদালতে প্রেরণ করেন।

এরপর আদালত রাজীবকে কারাগারে প্রেরণ করেন। আর সেদিন কারাগারে পৌছার পর প্রিজন ভ্যানে থাকাবস্থায়ই পুলিশকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আর ভাল লাগে না। কোন অপরাধ না করার পরেও পুলিশ শালারা ধইরা নিয়া আসছে। অঅর কত জেল খাটবো।’

তবে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাজীবের জামিন আবেদন করা হলেও শুনানী শেষে বিচারক মো: আনিসুর রহমান তার জামিন নামঞ্জুর করেন।

ফলে অপ্রত্যাশিত ভাবেই আরো কয়েকদিন আজাদ ও রাজীবকে কারাভোগ করতে হবে বলে জানান তাদের আইনজীবী এড. বারী ভূইয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here