নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের দোষ তিনি তার নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেন, মহানগর বিএনপি’র সভাপতির সাথে ফটোসেশনে যান না। সাখাওয়াতের দোষ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে গলির মোড়ে ব্যানার নিয়ে না দাড়িয়ে রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্লোগান দেন। আর এতে করেই গা জলুনি শুরু হয়ে যায় তথাকথিত ব্যানার সর্বস্ব নেতাদের। আর তাদের গাত্রদাহের কারন মহানগর বিএনপি’র আট নেতার মানববন্ধনে কর্মী আসে পঞ্চাশ জন আর এক সাখাওয়াতের সাথে আশে দুইশ, এমনটাই দেখা গেছে গত ২৫ তারিখের মানববন্ধনে। তাইতো সাখাওয়াতের একলা চলার বিরোধীতা তাদের’ কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র জনৈক কর্মী।

তৃণমূল সূত্রে প্রকাশ, এক সময় একসাথেই আন্দোলন সংগ্রাম করতেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম ও সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাখাওয়াতের বিরোচিত অংশগ্রহন তাকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় নিয়ে আসে। আর সে থেকেই সভাপতি আবুল কালামের আতে ঘা লাগে আর সাখাওয়াতকে কুপোকাতের হেন চেষ্টা নেই যা তিনি করতে বাকী রাখেন। ফলে ধীরে ধীরে নিজেই দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। এর ফলে নিজে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে না থাকলেও সাখাওয়াতকে ঠেকানোর নানা কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলমান আন্দোলন সংগ্রামে আবারো এক সাথে এসেছিলেন সাখাওয়াত। কিন্তু সাখাওয়াতকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে মাত্র দুই মিনিটেই কর্মসূচি সমাপ্ত করেন কালাম। তাছাড়া সাখাওয়াতের নেতাকর্মীদের দিয়েই মহানগর বিএনপি’র কর্মসূচির দায় সারেন মহানগর নেতারা। আর তাই আবারো নিজের মতো করেই চালিয়ে যেতে থাকেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনে মহানগর বিএনপি’র সভাপতিসহ আট শীর্ষ নেতার সাথে এসেছিলেন গোটা পঞ্চাশেক কর্মী আর এক সাখাওয়াতের মানববন্ধনে দেখা গেছে প্রায় দুইশ নেতাকর্মীর অংশ গ্রহন। আর তাতেই গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায় কালাম গ্রুপের।

সূত্র জানায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারীতে এড. আবুল কালামকে সভাপতি আর এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। কমিটি ঘোষনার পর থেকেই সভাপতি আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র রাজনীতি নিজের ড্রয়িং রুমে বন্দি করে ফেলেন। রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের পরিবর্তে আবুল কালামের বাসায় বসে নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র রাজনীতি। আর তার সার্বক্ষনিক সঙ্গি হিসেবে নিয়োগ দেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্র আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। কালাম-টিপুর পাল্লায় পরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সংগ্রামী মুখ এটিএম কামালও নিজেকে গৃহবন্দি করে ফেলেন। গৃহবন্দি কালামের নাগপাশ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে এটিএম কামাল রাতের অধারে দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিদেশে। বিতর্কিত নেতা টিপুকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেয়া আর নিজেকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দুরে সরিয়ে রেখে গৃহবন্দি করে ফেলায় এটিএম কামালের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীরাও আবুল কালামের সঙ্গ আর সহ্য করতে পারছে না। তাছাড়া দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবীতে চলা আন্দোলন সংগ্রামে পুলিশের হামলা মামলার শিকার নেতাকর্মীরা পাশে পায়নি আবুল কালামকে।

আইনজীবী হিসেবে যেখানে এড. তৈমূর আলম খন্দকার ও এড. সাখাওয়াত হোসেন খান আদালতে নেতাকর্মীদের মুক্তির জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন, তখন নিজে আইনজীবী হয়েও কোন নেতাকর্মীর পাশে দাড়াননি কালাম। এমনকি মামলা হামলায় গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজও নেননি তিনি। তাই দিনকে দিন কালামের উপর ক্ষুব্দ হয়ে উঠছিলো নেতাকর্মীরা। আর ক্ষুব্দ এসব নেতাকর্মীদের মনে আশার আলো হয়ে জ¦লে রয়েছেন কেবলমাত্র এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। কারন সভাপতি গৃহবন্দি আর সাধারণ সম্পাদক লাপাত্তা, এমতাবস্থায় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম আর মাথার উপর ছায়া দানের জন্য নেতাকর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে এখনো টিকে আছেন সংগ্রামী সাখাওয়াত।

এড. আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এ আসনের সম্ভাব্য আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রতিহত করতে ব্যবহার করতে থাকেন নানা কুট কৌশল। কারন এ আসনের সাবেক এমপি এড. আবুল কালামের দলীয় মনোনয়ন অনিশ্চিত করে তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করা এড. আবুল কালামের জন্য কাল হয়ে দেখা দিয়েছে। কারন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের অপারগতায় এড. সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে এবং বুক চিতিয়ে লড়াই করে নিজেকে নিয়ে যান অনন্য এক উচ্চতায়। কেন্দ্রেও সাখাওয়াতের গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় অনেকগুণ। আর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সাথে বেঈমানি করায় এড. আবুল কালাম কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হয়ে যান অপরাধী। দিন যত গড়াতে থাকে, কালামের জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা-দুটিই কমতে থাকে। অন্যদিকে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়াই করার পুরস্কার হিসেবে তৃণমূল থেকে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সাখাওয়াতের প্রশংসা ছড়িয়ে পরে সর্বত্র। ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আবুল কালামের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাখাওয়াত। আর তাই মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পথের কাঁটা সাখাওয়াতকে সড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন এড. আবুল কালাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here