নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি ব্যয়ে ডিএনডি বাঁধ উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ’ সদ্য সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে অনুষ্ঠিত পৃথক দু’টি জনসমাবেশে এমন আশার বানীই শুনিয়েছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক।
যার ফলে বহু বছরের জলাবদ্ধতা নিরসন হওয়ার সু-সংবাদে বেশ আনন্দিত হয়েছিল ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ অধিবাসী। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল অভিশাপ মুক্ত হওয়ার।

কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারনে গত বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া টানা মাঝারী ও ভারী বর্ষণের কারনে ফের বিষাদের ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে আনন্দে উদ্বেলিত ডিএনডিবাসীর মুখে।

শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিন ডিএনডি বাঁধের আওতাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, টানা বষর্ণের কারনে ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে নতুন করে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। ফের ময়লা পানিতে ভরে গেছে সড়কসহ বিভিন্ন বসত বাড়ীর উঠান।

আর নিম্নচাপের ফলে টানা বৃষ্টিপাত শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকা এবং ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরুর সময় পুনরায় বৃষ্টিপাত হওয়ার শংকায় আনন্দের মাঝেও এখন ডিএনডিবাসীর মুখে পরিলক্ষিত হচ্ছে বিষাদের ছাপ।

এব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা জায়েদুল হক বলেন, ‘আমাগো এমপি শামীম ওসমানের লেইগ্যা প্রধানমন্ত্রী ডিএনডির কাজের টেকা দিছে। অহন কাজ হইবো শুনছি, তয় বৃষ্টি আইয়াতো আবার বারডা বাজাইয়া দিতাছে। হেল্যাই চিন্তা কইরতাছি। আল্লাই আমাগো দেখবো।’

জানাগেছে, প্রায় ২০ লাখ মানুষের দূর্ভোগের কথা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৯ আগষ্ট একনেক সভায় এজেন্ডায় না থাকা সত্ত্বেও ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেন।

এরপর চলতি বছরের গত ২১ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্পের অভ্যন্তরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ‘ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্পৃক্ত থাকবে।

তারপর ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানাতে গত ১৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ এবং গত ১৯ অক্টোবর ফতুল্লায় স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমানের উদ্যোগে থানা আওয়ামীলীগের আয়োজনে বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

যেই দু’টি সমাবেশের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ কাজ সম্পন্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান।

আর ফতুল্লার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক জানান, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ডিএনডি এলাকায় সেনাবাহিনীর আনাগোনা বাড়বে, উন্নয়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

যা শুনে ডিএনডিবাসী আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। প্রত্যাশা করেন দ্রুত কাজ শেষ হওয়ার। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু হওয়া নিয়ে তাদের মনে শংকা দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত ১৯৬৫-৬৮ সালে রাজধানী ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ি, কদমতলী, শ্যামপুর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানা এলাকার ৮ হাজার ৩৪০ হেক্টর এলাকা নিয়ে ডিএনডি বাঁধটি নির্মিত হয়। ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশ পানিতে ডুবলেও ডিএনডি বাঁধ ছিল বন্যা মুক্ত।

আর ডিএনডি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল এ এলাকার মানুষ যাতে খালের পানি সেচের মাধ্যমে ইরি ধানসহ যাবতীয় ফসল নির্বিঘেœ ফলাতে পারে। এলাকাটি ঢাকা শহরের অতি সন্নিকটে বন্যামুক্ত বিধায় এখানে ক্রমান্বয়ে গড়ে উঠতে শুরু করে বসতবাড়ি।

বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারনে ফসলের ক্ষেত বিলীন হয়ে এখানে বহুতল অট্টালিকার সমাহার গড়ে উঠে। যার ফলে এখন একটু বৃষ্টি হলেই বাঁধের ভিতর ও এর আশেপাশের রাস্তা, ঘরবাড়ি সবই জলাশয়ে পরিণত হয়ে যায়। যা রীতিমত মরণ বাঁধে পরিনত হয় ডিএনডি বাঁধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here