নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি, বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সভাপতি আনোয়ার হোসেন বন্দরের নাসিকের ৯টি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে টানা হেচড়া শুরু করে দিয়েছেন। তিনি গত সিটি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে তড়িগড়ি করে মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করেন।

২৭টি ওয়ার্ড কমিটি সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের সুপারিশ নিয়ে তিনি দলীয় প্রতীকের আবেদন করেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করার পায়তারা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দরে ৯টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা জানান, বন্দরের নাসিক ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের কমিটিকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রের নিয়মকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটানোর লক্ষ্যে মৌখিক ভাবে কমিটি গুলি স্থগিত করে রাখেন যা গঠনতন্ত্র বিরোধী। আমি মনে করি বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড কমিটি এখনও চলমান আছে।

এব্যাপারে ২৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহআলম জানান, আমার ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এ ধরনের কোন চিঠি আসেনি। একদিন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডের কমিটিকে স্থগিত করা হয়েছে। মুখ খুলতে চাইনা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ কমিটির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। তারা বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডের কমিটিকে স্থগিত রাখার কারন হলো আমরা সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হয়ে কাজ করেছি। এ সকল নেতারা কখনো চাননি সিটি নির্বাচনে বন্দর থেকে আওয়ামীলীগের জয় হোক। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজয় হলে তার সম্পূর্ণ দোষ পরবে সাংসদ শামীম ওসমানের উপর। কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে শামীম ওসমানকে হেয় করার জন্যই তাদের এই অপচেষ্টা বা খেলা।

এব্যাপারে ২৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী ছামাদ জানান, মাহানগর কমিটির মা বাবা যারা আছে তারা যেভাবে আমাদের চালাচ্ছে আমরা সেই ভাবেই চলছি। আমাকে ২৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি করা হবে একাধিক বার শুনেছি এবং চিঠিও পেয়েছি। কিন্তু কবে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে জানতেই পারলাম না।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক ও ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান জানান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতিসহ একাধিক নেতা টাকার জন্য এতো মরিয়া হয়ে পরেছেন তারা বিভিন্ন ইস্যুকে পুঁজি করে টাকা হাতানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নূর ইসলাম চৌধুরী রীতি মত বিএনপির লোকজনকে টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ড কমিটিতে আনতে চাচ্ছে বলে শুনেছি। মনে হয় এখন বন্দরের ওয়ার্ড কমিটিকে কেন্দ্র করে ভালোই টাকা কুড়ি কামিয়ে নিবে তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here