নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: মিথ্যাচারের মাধ্যমে নিজেদের উঁচু অবস্থানে রাখাটা যেন এখন রাজনীতির কৌশল হিসেবে পরিনত হয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন এবং সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার- এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের।
আর যার ¯েœহতলে থেকে দলের মধ্যে একটি ভাল পদে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা, এখন সেই শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তির বিরুদ্ধেই কখনো প্রকাশে কিংবা কখনো ইঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিদ্রুপ মন্তব্য করে তোলপাড় সৃষ্টি করছেন।

জানাগেছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ^ প্রামান্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা কোন বাস না পাওয়ায় নেতারা নিজেদের এসি গাড়ীতে চড়ে, আর কর্মীদের ট্রাকে নিয়ে ঢাকায় যান।

এরপর সমাবেশেস্থলে যোগদানের লক্ষ্যে বাস না পাওয়ার অভিযোগ করে, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা এজন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে দোষারোপ করেন। যা নিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সেদিনের সমাবেশে যোগ দিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ, আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই বুকিং করা বিভিন্ন পরিবহনের বাস নিয়ে ঢাকায় সমাবেশস্থলে যোগ দিলেও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী কোন পরিবহন মালিকের কাছে সমাবেশে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়াই চাননি।

উল্টো বাস ভাড়া না চেয়ে এখন কর্মীদের ট্রাকে চড়িয়ে ঢাকায় নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা এখন নিজেদের দোষ ঢাকতে সমাবেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাস না পাওয়ার জন্য সাংসদ শামীম ওসমানকে দোষারোপ করে মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

এব্যাপারে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলরত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শীতল ট্রান্সপোর্ট ও আনন্দ পরিবহনের এমডি মোক্তার হোসেন নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘১৮ নভেম্বরের নাগরিক সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের কোন নেতৃবৃন্দ বাস ভাড়া নিতে যোগাযোগ করেন নি। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা তাঁতী লীগ সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল শীতল পরিবহনের বাস ভাড়া চেয়েছিল, তাদের দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন যদি কোন নেতা সমাবেশে যাওয়ার জন্য আমাকে ফোন করে বলে একটি গাড়ী দিয়েন, তাহলে তো আর কোন মালিক গাড়ী দিতে পারে না। ভাড়া নেয়ার গর্জ থাকলে অবশ্যই মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা আগে আসতেন। অত্যন্তপক্ষে সমাবেশের দিন কেউ বাস না পাওয়ার আক্ষেপ করতেন না।’

একই প্রসঙ্গে বন্ধন পরিবহনের এমডি হাজী আইয়ুব আলী বলেন, ‘গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের কোন নেতৃবৃন্দ বাস ভাড়া নেয়ার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাই নিজেদের অযোগ্যতায় বাস না পেয়ে যদি কেউ সাংসদ শামীম ওসমানের নামে বদনাম রটায়, তাহলে সেটা তাদের মিথ্যাচার করা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তবে শুধু বাস মালিকরাই নয়, খোদ মহানগর আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দরাও অভিযোগ করেন, যদি সমাবেশ স্থলে যাওয়ার জন্য কোন কোম্পানীর কাছে বাস ভাড়া চেয়ে নাই পেয়ে থাকতেন, তাহলে সমাবেশের আগে কেন মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা এব্যাপারে কিছু বললেন না। সমাবেশে যোগদানের আগমূহুর্তে বাস না পেয়ে শ্রমিকলীগ নেতা আলহাজ¦ কাউসার আহাম্মেদের দয়ায় ১০টি ট্রাক পেয়ে তাতে করে কর্মীদের সমাবেশস্থলে নিয়ে গেলেন। আবার এখন পরোক্ষ ভাবে সাংসদ শামীম ওসমানকে দোষারোপের মাধ্যমে পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন।

মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনেও সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে বাস না পাওয়ার ক্ষোভে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এজন্য পরোক্ষ ভাবে সাংসদ শামীম ওসমানকেই দোষারোপ করেছেন।

আর সমাবেশ থেকে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা মন্তব্য করেন, ‘৭ই মার্চের ভাষনকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রমান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনন্দ সমাবেশে নারায়নগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল প্রমান করে যানবাহনের কৃত্রিম ধর্মঘট তৈরি করে মহানগর আওয়ামীলীগের মিছিল বন্ধ করা যাবেনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

তারআগে সমাবেশে যাওয়ার প্রাক্কালে বাস না পেয়ে মালা প্রথম মন্তব্য পোস্ট করে বলেন, ‘নারায়নগঞ্জে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট হচ্ছে। কারন ৭ই মার্চের ভাষনের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতিতে নারায়নগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ ঘোষণা দিয়েছিলো বিশাল ও বর্নাঢ্য মিছিল আনবে, কথাটি যাদের পছন্দ হয়নি তারা হয়তো এ কাজ করেছেন, কিন্তু আমরা অনেক কষ্ট করে নাগরিক আনন্দ সমাবেশে আসছি, আমাদের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে।’

মালার এমন মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মহানগর যুব মহিলালীগের একটি কমিটি গঠন কে কেন্দ্র করে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা ও সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাহমুদা মালা।

যা নিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here