নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ওসমান পরিবারের নূন খেয়ে উল্টো তাদের বিদ্রুপ করায় মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের এরশাদ (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সাংসদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমানের অনুসারীররা।
মূলত সদ্য দলীয় একটি সভায় বক্তব্যকালে ‘নারায়ণগঞ্জে অন্য কোন দল নেই, একটাই আছে, সেটা হলো ওসমান দল’- মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনের এমন মন্তব্যের পর তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

যেই সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয় শিষ্যদ্বয়ের বদৌলতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন রাজনৈতিক ‘গুরু’ দাবী আনোয়ার হোসেন, খোদ তার মুখেই আবার সেই শিষ্যদ্বয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রুপ মন্তব্য করায়, আনোয়ার হোসেনকে কেউ নাড়কাডা, কেউবা পল্টিবাজ হিসেবেও আখ্যায়িত করে ফেসবুকে সমালোচনা করেন।

কিন্তু জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাথেই কেন আনোয়ার হোসেনকে তুলনা করা হলো- এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ এখন যেমন মন্ত্রী পদমর্যাদা ভোগ করার পাশাপাশি কখনো সরকারেরও বিষেদাগার করছেন, ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনও সিটি নির্বাচনের পূর্বে দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর বিরোধীতা করে ওসমান পরিবারের সুনাম করেছিলেন, পরবর্তীতে আবার ওসমান পরিবারের অবদানে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আনোয়ার হোসেন এখন ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধাচরন করে আইভীর সুনাম গাইতে শুরু করেছেন।’

তাই এরশাদ যেমন নিজ স্বার্থে যখন তখন কারো মতবিরোধ করতে দ্বিধাবোধ করেন না, ঠিক তেমনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও এখন তারই মত ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের বিরুদ্ধাচরন করতে দ্বিধাবোধ করছেন না বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

গত ২ ফেব্রুয়ারী বিকালে নগরীর ২নং রেলগেটস্থ জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সদস্য সংগ্রহ বিষয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেছেন,‘আওয়ামীলীগ জনগণের দল, কোন ব্যক্তির দল নয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে অন্য কোন দল নাই, একটাই দল আছে। আর সেটা হলো “ওসমান দল”। যদি তাই হয়, তাহলে তা দলের জন্য ক্ষতিকর।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামীলীগ যদি জনগণের দল হয়, তাহলে জনগণকে সাথে নিয়েই এ দলের কার্যক্রম চালাতে হবে। দলের সু-সময়ে মধু আহরন করবেন আর দু:সময়ে বোঝা ভেবে বিদেশে চলে যাবেন, আমরা এমন নেতৃত্ব চাই না। যারা আওয়ামীগের নেতাকর্মী হয়ে লাঙ্গন নিয়ে দৌড় পারে, আমরা এমন নেতা চাই না। আমরা ত্যাগী নেতাদের নিয়ে দল গঠন করতে চাই। যারা শেখ হাসিনার মার্কা নিয়ে রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে এগিয়ে আসতে পারবে এবং দলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে যারা কাজ করতে পারবে, আমরা তাদেরকে নিয়েই কাজ করতে চাই।’

আর আনোয়ার হোসেনের এমন মন্তব্যের পরই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

মহানগর ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম অপু মন্তব্য করেন, ‘আনোয়ার হচ্ছে নাড়কাডা, নারায়ণগঞ্জের আরেক এরশাদ।’

এমটিএ মেহেদী বলেন, ‘ওসমান দল আছে বলেই তো আনোয়ার হোসেনর মত লোক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হইছেন। লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন। ওসমান দল ছিল বলেই নারায়ণগঞ্জবাসী ১৫০ বছরের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছিলো। অবশ্য পতিতালয় বন্ধ হয়ে অনেকের ইনকামও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ওসমান দল আছে বলেই অনেকে জামাত বিএনপির মার থেকে রক্ষা পায় এবং জয় বাংলার স্লোগান দেয়ার সাহস পায়। ওসমান দলের কল্যানেই কেউবা আবার তেলতেলা শরীর নিয়ে জীপ গাড়িতে চলার সুযোগ পায়। এখন তো বড় বড় কথা বলেনই।’

শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ ইমরান লিখেন, ‘ওসমান সাহেবের উপকারিতার কথা নারায়নগঞ্জের মাটিতে যে বা যারা অস্বীকার করবে তারা পশু।’

এমনও অনেকেই আনোয়ার হোসেনের মন্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করে বিদ্রুপ মন্তব্য করেন।

এরআগে গত বছরের জুনে মহানগর যুব মহিলালীগের পাল্টা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ করাসহ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধাচরন করে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।

কিন্তু তাতে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় ‘গুরুর’ প্রতি কোন বিষেদাগার না করে উল্টো আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে সেলিম ওসমান বন্দরে তার নিজ অর্থায়নে নির্মিত স্কুলের উদ্বোধনীতে আগত প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অভ্যর্থণা জানান।

আর শামীম ওসমান ডিএনডি বাঁধের উন্নয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলামের উপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনকে এক মঞ্চে নিয়ে বসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here