নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ‘ছলচাতুরি’ করা যেন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হেসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার।
আর একের পর এক তাদের এই ‘ছলচাতুরি’ করার পন্থা ফাঁস হতে থাকায় এখন চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তারা দলের স্বার্থে অচিরেই মহানগর আওয়ামীলীগ থেকে আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহাকে বিতাড়িত করে কমিটি পুনর্গঠনে কেন্দ্রের প্রতি আহ্বান জানান।

কারন হিসেবে তৃণমূল নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গত ২০ মে গণভবনে আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ণ কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২৫ হাজার নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনায় ২৭ টি ওয়ার্ডে আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহানগর আওয়ামীলীগ।’

‘গত ৭ জুন দুপুরে চাষাড়া ডাক বাংলোয় আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সভায় সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

‘কিন্তু ওয়ার্ড পর্যায়ে আহবায়ক কমিটি গঠনের পরিবর্তে মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহার যোগসাজশে বন্দর থানাধীন ৯ টি ওয়ার্ডে চুপিসারে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের হাতে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের বই তুলে দিয়ে তারা ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।’

কেননা, গত ২০ মে গনভবনে সারাদেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি/সাধারন সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী রোধে নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়ার পর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় দলের মধ্যে যেন কোন ধরনের ‘হাইব্রীড’ নেতার অনুপ্রবেশ না ঘটে সেজন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ¦ আনোয়ার হোসেন ও সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা।

অথচ, এখন এই শীর্ষ নেতারাই ‘চুপিসারে’ ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহ ফরম তুলে দিচ্ছেন। যা রীতিমত প্রকৃত নেতাকর্মীদের সাথে ‘ছলচাতুরি’র সামিল বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দ।

আর এই ‘ছলচাতুরি’ করে বন্দর থানাধীন ৯ টি ওয়ার্ডে দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম অভিযানের লক্ষ্যে ‘হাইব্রীড’ জাতীয় নেতাদের কাছে চুপিসারে বই হস্তান্তরের প্রতিবাদে গত ২২ অক্টোবর বিকেলে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড নবীগঞ্জে মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এম এ রশীদ মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘বন্দরে ৯টি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের না জানিয়ে ‘হাইব্রীড’ নেতাদের কাছে সদস্য সংগ্রহ বই তুলে দেওয়ার ঘটনায় বেশ মর্মাহত হয়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা। মহানগরের দায়িত্বশীল কতিপয় নেতা’র এমন আচরণের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে যদি কোন উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়ভার মহানগর আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।’

তবে তৃণমূলের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহা। তিনি উল্টো দাবী করেন, ‘বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি হচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের অধীন। তাই তিনি মহানগর আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন কথা বলার এখতিয়ারই রাখেন না।’

শুধু সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেই নয়, এর আগে দলীয় সাংগঠনিক ‘সীমানা’ ইস্যুতে জেলা আওয়ামীলীগের সাথে বিরোধে জড়িয়ে একপর্যায়ে দাবীকৃত বন্দর উপজেলাধীন ৫টি ইউনিয়ন নাকি কেন্দ্র থেকে মহানগর আওয়ামীলীগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নেয় আনোয়ার হোসেন এবং খোকন সাহা। পরবর্তীতে গত ৩০ জুলাই জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলীয় সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনীতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নেয়া আনোয়ার খোকনের হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দিয়ে যান কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম সম্পাদক ডা: দিপু মনি এমপি।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সীমানা কেবল মাত্র মহানগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডই। তার বাহিরে যা আছে সব জেলার অধীন।
এরপর ‘সীমানা’ ইস্যুতে ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নেয়ার কারনে দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা।
এছাড়াও মহানগরীর ২৭ টি ওয়ার্ডে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা নিয়ে কেন্দ্র থেকে নগদ টাকা জমা দিয়ে বই আনলেও, সেখানেও ‘ছলচাতুরি’র আশ্রয় নেন আনোয়ার হোসেন। দলীয় নতুন সদস্য সংগ্রহে মহানগর আওয়ামীলীগের লক্ষ্যমাত্রা কত জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, টার্গেট নাকি ৪ লাখ!

কিন্তু, খোকন সাহা সত্যটা স্বীকার করে দেয়ার ফলে আনোয়ার হোসেন মিথ্যাবাদী হিসেবে তৃণমূলের দুর্নাম কুঁড়ান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here