নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: আবারো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সঙ্গ ত্যাগ করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরুর সঙ্গী হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ’ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ায় নাগরিক কমিটির ব্যানারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে যোগদানের সময় এমনই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

এমিরেটস্ অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেখাগেছে, উক্ত সমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কার্জন হল সংলগ্ন দোয়েল চত্ত্বরে এসে সমবেত হন।


এরপর এখান থেকে শো ডাউন করে আব্দুল হাই, জেলা যুবলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদিও, জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বল্প সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিলেও এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদল বীরুর সাথে ব্যাপক শো ডাউন করে আলাদা ভাবে সমাবেশস্থলে যায়।

যা দেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করেন। কেউ কেউ বলেন, বাদল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় যেমন তার একজন ডোনার প্রয়োজন, তেমনি জেলা আওয়ামীলীগের সমর্থনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বীরুরও বাদলের প্রয়োজন রয়েছে। তাই উভয়েই এখন উভয়ের জন্য অত্যাবশকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দু’জনেই সবখানে এখন একত্রে চলছেন।

জানাগেছে, বেশ কয়েকমাস যাবত জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে যে কোন কর্মসূচীই একক ভাবে পালন করে আসছিলেন আব্দুল হাই ও ভিপি বাদল। হঠাৎ করেই আব্দুল হাইয়ের সাথে বাদলের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় গণমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়।
যার প্রেক্ষিতে ইদানীংকালে জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল একক ভাবে একের পর এক দলীয় কর্মসূচী পালন করায়, আব্দুল হাইয়ের সাথে তার যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা ক্রমশই প্রকাশ্য হতে থাকে।

কিন্তু কি কারনে হঠাৎ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে কখনো কেউ বলেনি।

অপরদিকে দেখাগেছে, জেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে শহরের দলীয় কার্যালয়ে বাদল সম্প্রতি যত কর্মসূচীই পালন করছেন, সবগুলোতেই হেভীওয়েট নেতাদের মধ্যে একমাত্র আওয়ামী পন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বীরুকেই দেখা গেছে।


এরপর গত ৫ নভেম্বর সোনারগাঁ উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জেল হত্যা দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন জাতিসংঘ (ইউনেস্কো) আন্তর্জাতিক রেজিষ্টার স্মারকে ‘মেমোরী অব দ্যা ওয়াল্ড’ ইন্টার ন্যাশনাল রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জনসভায় যখন অতিথি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই ও সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল যোগ দিয়ে এক মঞ্চে বসেছিলেন, তখন দলীয় নেতাকর্মীরা ভেবেছিলেন, হয়তো কয়েক মাস পূর্বে উভয়ের সম্পর্কে সৃষ্ট হওয়া দূরত্বের বুঝি অবসান সোনারগাঁয়ের মাটিতেই শেষ হয়েছে।

কিন্তু না, একমঞ্চে উপবিষ্ট থাকলেও শুধুমাত্র আব্দুল হাইয়ের সাথে মান রক্ষার্থে কুশলাদী বিনিময় করেন বাদল। যার ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তাদের সম্পর্কের বৈরীতা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান, সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।

ফলে এক মঞ্চে বসলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের সাথে সাধারন সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদলের মধ্যকার সৃষ্ট দূরত্ব বিরাজমান রয়ে যায়।

এরপর গত ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি’ পাওয়ায় জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আব্দুল হাই ও এড. আবু হাসনাত মো: শহিদ বাদলকে একমঞ্চে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে দেখে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ভেবেছিলেন, হয়তো বা আব্দুল হাইয়ের সাথে বাদলের দূরত্ব কিছুটা হলেও ঘুঁচতে শুরু করেছে।

কিন্তু ফের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আব্দুল হাইয়ের পরিবর্তে বীরুর সাথে বাদলের শো ডাউন দেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেন, শীর্ষ নেতারা মুখে যতই ঐক্যের আহ্বান জানান না কেন, খোদ তারাই নিজেদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি করে রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here