নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দলীয় চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপি’র চলমান আন্দোলন সংগ্রামে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম, আর রাজপথে সংগ্রাম করে কারাবরনের পাশাপশি নেতাকর্মীদের জন্য নারায়ণগঞ্জের আদালতে আইনী লড়াই চালিয়ে ক্রমশই আলোচনার শীর্ষে উঠে আসছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সর্বশেষ আড়াই মিনিটের ফটোসেশন প্যাকেজে এড. আবুল কালামের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে তৃণমূল আর কালামকে টপকিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রহনযোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছেন এড. সাখাওয়াত- নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে এমনটাই জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণ হওয়ার পর থেকেই সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও আন্দোলনের জন্য ফুঁসছিলেন, তখন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালাম নেতাকর্মীদের ফেলে সৌদি আরবে পাড়ী জমিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পরও রাজপথে প্রতিবাদে দেখা যায়নি তাকে। এমনকি নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানায় ১৩টি মামলায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শতাধীক নেতাকর্মী গ্রেফতার প্রায় সহ¯্রাধীক নেতাকর্মীকে আসামী করা হলেও এসব মামলা থেকে অদৃশ্য কারনে বাদ পরেন এড. আবুল কালাম, ১৩টি মামলার কোনটিতে আসামী করা হয়নি তাকে। বিএনপি’র সাইনবোর্ডে সরকারী দলের সাথে আতাত করে চলার কারনেই আবুল কালামের প্রতি প্রশাসনের নেক নজর বলে মনে করে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর নিজে মামলা থেকে রেহাই পেতে এড. আবুল কালাম রাজপথে নেতাকর্মীদেরও অচল করে দেয়ার পায়তারা করছেন বলে ধারনা তাদের। সর্বশেষ সোমবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের কেন্দ্রেীয় কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি শেষ করেছে মাত্র আড়াই মিনিটে। আর এ ফটোসেশনে ক্ষেপে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূল। দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যখন হামলা মামলার শিকার হয়েও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন, তখন আবুল কালামের এই দায়সারা আয়োজন চেয়াপার্সণসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের প্রতি উপহাস হিসেবে দেখছেন তারা। তাছাড়া একজন সিনিয়র আইনজীবী হওয়ায় এড. আবুল কালামের প্রতি আইনী সহায়তার প্রত্যাশায় থাকা মামলা হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের জন্য একদিনও আদালতে দাড়াননি তিনি। যা হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করেছে মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী জিয়ার সৈনিকদের।

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় এড. আবুল কালামের প্রতিদ্বন্দি হওয়ায় বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে দ্বন্দের সৃষ্টি করেন কালাম। এমনকি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে গৃহবন্দি করে সাখাওয়াতকেও রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে কেন্দ্রের কাছে সাখাওয়াতের নামে নালিশও করেন কালাম। কিন্তু শত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে রাজপথে সরকারী বিরোধী অবস্থান ঠিকই চালিয়ে গেছেন এড. সাখাওয়াত। দলীয় চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরে যাওয়ার সময়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তার পাশে শো-ডাউন করলেও খালেদার রায় ঘোষনার আগের দিন সিলেট যাত্রার সময়ে নারায়ণগঞ্জের রাস্তার পাশে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোন বিএনপি নেতাকর্মীকে। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি ঠিকই আইনজীবী নেতাকর্মীদের নিয়ে সাইনবোর্ডে রাস্তায় দাড়িয়ে নেত্রীর আগমনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সরকার বিরোধী শ্লোগান দেন। আর পরিনতিতে আরো দুই আইনজীবী নেতাসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হয় তাকে। দীর্ঘ ১১দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এড. সাখাওয়াত হোসেন খান দলীয় চেয়ারপার্সণের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ৭ থানায় দায়েরকৃত ১৩টি মামলায় আসামী হওয়া নেতাকর্মীদের জামিনের জন্য নারায়ণগঞ্জের আদালতে আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত। আর তাই আবুল কালামকে টপকে নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here