নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: দায়িত্ব পেয়ে দলকে সংগঠিত করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদ হারাচ্ছেন কাজী মনির, আর এ গুরু দায়িত্ব আবারো পেতে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও বর্তমানে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার- বিএনপি’র একটি সূত্র থেকে এমনটাই জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জের কোন পদে না থেকেও গত আট মাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তৈমূরের অনবদ্য কার্যক্রম নজর কেড়েছে সকলের। আর তাই আবারো নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে তৈমূরের কাঁধে।

তৃণমূলের মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান কমিটি গঠন হওয়ার পর প্রায় আট মাসেও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে উজ্জিবীত করতে পারেননি। বরং জাতীয় বা দলীয় কর্মসূচি পালনে বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সর্বপ্রথম জেলা বিএনপি’র বড় আয়োজন কর্মীসভায়ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ^াস সে অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। এরপর থেকে যে কোন কর্মসূচিতে আর নেতাকর্মীদের নিয়ে মনে রাখার মতো কোন আয়োজন করতে পারেননি কাজী মনির। এমনকি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের ধাওয়ায় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে পালিয়ে যান সভাপতি।

এরপর দলীয় চেয়ারপার্সণের কক্সবাজার যাত্রা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ অতিক্রমের সময় নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন করার ক্ষেত্রেও সুপার ফ্লপ জেলা বিএনপি’র সভাপতি। এদিন নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরের অবস্থান খুবই অসহায় ঠেকেছে নেতাকর্মীদের কাছে।

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ঢাকায় সমাবেশ করার অনুমতি পায় বিএনপি। আর তাই সমাবেশকে সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জকে গুরুত্ব দেয়া হয় সবচেয়ে বেশী। আর সামনে জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারাও নিজেদেরকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহা সমাবেশকে। কিন্তু এদিনও সুপার ফ্লপ ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনির। অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় গিয়ে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। ফলে কেন্দ্রের নেক নজর থেকে বাদ পরে যান এই হাইব্রিড নেতা।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র কোন পদে না থেকেও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে রাজপথে তার শক্ত অবস্থান অক্ষুন্ন রেখে চলেছেন বরাবরের মতো। চেয়ারপার্সনের কক্সবাজার যাওয়ার পথে চেয়ারপার্সণকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিয়ে কাঁচপুর ব্রিজে অবস্থান নেন আর চেয়ারপার্সণ না যাওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে অবস্থান ধরে রাখেন। যা তৃণমূল নেতাকর্মীদেরকে অনেকটাই উজ্জীবিত করেছে বলে মনে করেন তারা। এরপর ঢাকার মহা সমাবেশে নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল শোডাউন কওে আবারো প্রমাণ করেন কিনিই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র প্রাণ ভ্রমরা। আর তাই রাজপথের পরীক্ষিত এই নেতার কাঁধেই আবারো দেয়া হচ্ছে জেলা বিএনপি’র অভিভাবকের গুরু দায়িত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here