নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: পুলিশের হামলা মামলায় দিশেহারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঘর বাড়ি ছেড়ে আবারো যাযাবর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সণের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষনার আগ থেকে নারায়ণগঞ্জের সাতটি থানায় দায়েরকৃত ৯ টি মামলায় শীর্ষস্থানীয় থেকে তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় এক হাজারেরও বেশী নেতাকর্মী আসামী হয়ে এখন ৭০ নেতাকর্মী কারাভোগ করছেন, আর বাকীরা রয়েছেন আত্মগোপনে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রায় দিনভর বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশী চালানোয়, ভয়ে এখন বাড়ি ঘর পরিবার পরিজন ছেড়ে বনবাসী জীবন বেছে নিয়েছেন তারা।

সূত্রে প্রকাশ, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর আজ অবধি আর ক্ষমতার স্বাদ পায়নি দলটি। এতো দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা ছিলো না দলটির নেতাকর্মীদের। বিগত ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করে সরকার পতন আন্দোলনে টানা তিন মাস সহিংসতা মূলক আন্দোলন করে নাশকতার মামলায় আসামী হয়ে দিনের পর দিন যাযাবর জীবন কাটিয়ে কারাভোগ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

এরপর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যখন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল দলটির নেতাকর্মীরা, ঠিক তার আগ মুহুর্তেই বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নাশকতার অভিযোগে মামলার আসামী ও গ্রেফতার হয়ে ফের নাজেহাল হয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দিশেহারা হয়ে পরেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকদের নামেও একাধিক মামলায় জামিন নিয়ে ঘর বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে উপলক্ষ্য করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আর সেই সময়ই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করা শুরু করে। বিএনপি চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়া থেকে বার নির্বাচনের গণসংযোগ করার সময় টেনে হিচড়ে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। দুদিন পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন তিনি।

সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায়ের দিন ধার্য ছিলো ৮ ফেব্রুয়ারী। রায় ঘোষনার দিন নির্ধারণের পর থেকেই ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি হতে দেবো না’ শ্লোগানে বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম করে রেখেছিলো নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা।

আর এই রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা স্বেচ্ছা সেবকদল যুগ্ম আহ্বায়ক এড. আনোয়ার প্রধান, জাতীয়তাবাদী জেলা আইনজীবী ফেরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মাঈনুদ্দিন, কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী আবুল বাশার বাদশা, নাসিক ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান, ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক লুৎফর মেম্বার, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক সরকারসহ আটক প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৭টি থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশের দায়েরকৃত ৯ টি মামলায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রায় এক হাজারেরও বেশী নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়।

ফলে ৭ থানায় ৯ মামলার ভয়ে খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় রাজধানীর রাজপথে ৮ ফেব্রুয়ারী প্রতিরোধ গড়ার ঘোষনা দিয়েও তা করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। রায়ে ৫ বছরের সাজা হওয়ার পর দলীয় চেয়ারপার্সণকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে রাজপথে নামতে সাহস করেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতারা।

আর নেতাদের অনুপস্থিতিতে কর্মীরা ছিলো দিশেহারা, তাই তাদেরকেও আর প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় দেখা যায়নি। বরং যারা এখনও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হননি, তারা এখন রাজপথে আন্দোলনের কথা ভুলে গিয়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করছে।

কখনো নারায়ণগঞ্জ, কখনো বা অন্য জেলায়, যে যেভাবে যেখানে লুকাতে পারছে, সেখানেই গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। যা অনেকটা যাযাবরের মত জীবন কাটাচ্ছেন তারা বলে অভিযোগ করেন মামলাগ্রস্থ নেতাকর্মীরাদের স্বজনরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here