নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নির্বাচনের মাঠে আবারো কোরবানী হয়ে গেলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এড. তৈমূর আলম খন্দকার। দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগ আর আন্দোলন সংগ্রামের বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে টাকার কাছে রূপগঞ্জের আসন বিকিয়ে দিলো বিএনপি, রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের চাহিদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হলো শিল্পপতি কাজী মনিরুজ্জামানের হাতে। ফলে বাবার নির্বাচনী মাঠ থেকে কুরবানী হয়েই ঘরে ফিরতে হলো দূর্ভাগা তৈমূরকে। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) কাজী মনিরের হাতে ধানের শীষের চুড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি তুলে দেওয়া হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে এড. তৈমূর আলম খন্দকারের মনোনয়ন না দেওয়ার খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মাঠ পর্যায়ে মামলা হামলার শিকার নেতাকর্মীদের মাঝে। দীর্ঘ এক যুগ ক্ষমতাহীন বিএনপি’র রাজনীতি করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাথার উপরে ছায়া হয়ে থাকা অভিভাবক তৈমূর আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রতি আবারো টাকার কাছে আসন বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ তৃণমূলের। সেই সাথে এই ধারা অব্যহত থাকলে ভবিষ্যতের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য আর রাজপথে নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাবেনা বলেও আশংকা তাদের।

সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে সংগ্রামী এক নাম নাম এড. তৈমূর আলম খন্দকার। তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো আপোষ না করায় নির্বাচনের মাঠে বারবার হোঁচট খেয়েছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে তৈমূরের সাথে ছিনিমিনি খেলেছে বিএনপি। আর ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েও সেলিনা হায়াত আইভীকে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তাকে। এমনকি নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার আগে তাকে জানানো পর্যন্ত হয়নি আর তাই আক্ষেপ নিয়ে তৈমূর তখন বলেছিলেন আমাকে না জানিয়েই কুরবানী করা হলো।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রূপগঞ্জ থেকে সবার উপড়ে ছিলেন চেয়ারপার্সণের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার। যদিও এ আসনে আরো মনোনয়ন পেয়েছিলেন দুই ধনকুবের কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। কিন্তু জনপ্রিয়তা আর গ্রহনযোগ্যতায় সকলকে ছাড়িয়ে তৈমূরের সম্ভাবনা ছিলো সবচেয়ে বেশী। আর নির্বাচনের মাঠে দিপু আর কাজী মনির উপস্থিত না থাকলেও রূপগঞ্জের মানুষের দ্বারে দ্বারে ধানের শেিষর গন সংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তৈমূর। এমনকি পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে রূপগঞ্জে ধানের শীষের ঝান্ডা উঁচিয়ে রেখেছিলেন একমাত্র তৈমূর। আর তাই তৈমূরের মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে সমগ্র নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীর অন্তরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here