নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন,বন্দরকে আমার মনের মত করে সাজাতে চাই। যাতে মৃত্যুর পর বন্দরবাসী আমাকে সহ আমার পরিবারকে মনে রাখে। বন্দরের মানুষ প্রমান করেছেন তারা কোন দল করেন না। বন্দরের মানুষ সবাই মিলে একসাথে বন্দরের উন্নয়ন করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের কাছে আমি কোন সংসদ সদস্য না। আমি নিজেকে আপনাদের গোলাম হিসেবে মনে করি এবং আপনারা আমাকে আরো একবার এই গোলামীর দায়িত্বটা নিতে বলছেন। যার জন্য আমি প্রতিটি এলাকায় গিয়ে জনগনের কাছে ক্ষমা চাইছি। কারন অতীতে আমি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কাজ করেছি। আমি যদি এলাকার মানুষের সাথে বসে তাদের সাথে আলোচনা করে উন্নয়ন কাজ গুলো করতাম তাহলে আরো অনেক বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বলবো আমাকে এলাকার মানুষদের সাথে বসার ব্যবস্থা করে দিবেন।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বন্দরের কদম রসুল পৌরসভা (সাবেক) সংলগ্ন রাস্তায় বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতীর কল্যানে কাজ করেছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের জন্ম। শাসমুজ্জোহা সাহেব নেই তাতে কি। নারায়নগঞ্জ আওয়ামীলীগ মানে ওসমান পরিবার। আমার ভাতিজা সেলিম ওসমান ৬ মাস আগে বলেছিল আমার চাচাকে আরো আগে পেলে উন্নয়ন অগ্রসর হতো। আমরা সবাই মহাজোট ৩০ তারিখে সবাই দিব লাঙ্গলে ভোট। খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে ঐক্য করেছে। আমরা বলতে চাই কোন অপশক্তি কাজ হবে না।

শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদকে চাচা সম্বোধন করে উনার প্রশংসা করে সেলিম ওসমান বলেন, উনি আমার বাবার সাথে কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পর লক্ষ্মী নারায়ণ, চিত্তরঞ্জন জুট মিল সহ অন্যান্য মিল গুলোকে আমার বাবা একেএম শামসুজ্জোহাকে সহযোগীতা করে সেগুলোকে ধ্বংস স্তুব থেকে দাড় করিয়ে ছিলেন। আমার বড় ভাইয়ের জন্য উনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়ে ছিলেন। এবার আমি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক ছিলাম না। আমি অত্যন্ত আশা করে ছিলাম এবার শুক্কুর চাচাই নির্বাচনটা করবেন আমি উনার পাশেই থাকতাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন যেন আমার প্রতি আত্মবিশ্বাস রেখে আমাকে নির্দেশ দিলেন এবং এই আসনে একটাই মনোনয়ন দিয়েছেন লাঙ্গল মার্কা। আমিই সর্বপ্রথম বলে ছিলাম নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনেই নৌকা মার্কা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে। আমি কখনো বলেনি উন্নয়নের কথা। শান্তিনগরে নীটপল্লী হচ্ছে। যেখানে ২০ লাখ লোক কাজ করতে পারবে। বন্দর হবে উন্নয়নের মডেল। এইটা আমার ওয়াদা। আমি যা বলি তাই করি। মনে রাখবেন সেলিম ওসমান বন্দর বাসীর উন্নয়ন চায়। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন চায়। আগামীতে আবারো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ ২৫ বছর এগিয়ে যাবে। উন্নয়নমূলক যে কোন কাজে আমি অংশীদার হতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। সেলিম ওসমান দলের নেতাদের কথা শুনে না। সেলিম ওসমান সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে। আমার একটাই স্বপ্ন সেটা আমার ভবিষৎ প্রজন্মের উন্নয়ন। আমাকে রাজনীতি করতে বাধ্য কইরেন না। রাজনীতি করলে মানুষের ভিতরে লোভ কাজ করে।

মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,নারায়নগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, নারায়নগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল, মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক ও নাসিক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২২ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ, নাসিক বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ, মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কমল, সাংগঠনিক সম্পাদক রানা প্রধান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

এদিকে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায় এবং শহরে ১৮নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে উক্ত এলাকার স্থানীয়দের সাথে পৃথক দুটি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। সেখানে তিনি বলেছেন, যে কোন মুল্যেই হোক আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। একটি পক্ষ পাকিস্তানের টাকা খেয়ে দেশের নির্বাচনকে বানচাল করতে চায়। নির্বাচন বানচাল করতে তারা নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আপনাদের সবাইকে সেসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ন নির্বাচন উপহার দিতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here