আরও ছয় জঙ্গিকে খুঁজছে পুলিশ

0
786

সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানা ‘ছায়ানীড়ে’ অভিযান শেষ হলেও স্বস্তি মেলেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছয় ভয়ঙ্কর জঙ্গি। তাদের মধ্যে সমন্বয়ক থেকে শুরু করে সামরিক প্রশিক্ষক ও বোমা তৈরির কারিগররাও রয়েছে। দুর্ধর্ষ এসব জঙ্গি অভিযানের আগে পুলিশি তৎপরতার খবর টের পাওয়ায় বারবার অবস্থান পাল্টাচ্ছে। পলাতক জঙ্গিদের একজন গুলশান হামলায় জড়িত থাকা মারজানের বোনজামাই সোহেল মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে সীতাকুণ্ডের ঘটনায় নিহত জঙ্গিদের পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। তাই ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গ্রেফতার দু’জনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পৃথক চারটি মামলাও হয়েছে। গ্রেফতার-কৃতদের গতকাল শুক্রবার রাতে ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এদিকে ‘ছায়ানীড়’ ঘিরে বাস করা মানুষের মাঝে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু-কিশোরসহ স্থানীয়রা প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। অপারেশন অ্যাসল্ট-

১৬ বৃহস্পতিবার সকালে সমাপ্ত হলেও সেদিন অঘোষিতভাবে বন্ধ ছিল আশপাশের স্কুল-কলেজ। গতকাল শুক্রবারও ছায়ানীড় ভবনটি ‘ক্রাইম সিন’ লোগো লাগিয়ে ঘিরে রেখেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ। ভবনের বাসিন্দাদের কেউই ঢুকতে পারছে না। গণমাধ্যম কর্মীরাও এখনও সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। এ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বোমা ও গ্রেনেড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার খবর পাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের মনে ভয় বিরাজ করছে। তারা নিজ নিজ বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রেখেছেন। অনেকে ঘর ছেড়ে থাকছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে নব্য জেএমবির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে মায়নুল হোসেন ওরফে মুছা। সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে আছে হাদিছুর রহমান ওরফে সাগর। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে মোশারফ হোসেন। তাদের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করে নব্য জেএমবির দুই সদস্য_ ফরহাদ ও মনির। মারজানের ভগি্নপতি নসরুল্লাহ বোমা তৈরির কারিগর। এই ছয়জনকে খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা ও আশপাশের জেলায় নিয়মিত অভিযানে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা মুছা চট্টগ্রামে অবস্থান করছে। তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে সে একাধিকবার বিচরণ করেছে। তবে মুছাসহ অন্যরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তাদের গ্রেফতারে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি।

নিহত ও গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় নিয়ে ধূম্রজাল :সাধন কুটির থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গি ও ছায়ানীড় ভবনে নিহত চার জঙ্গির ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় মিলছে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার দু’জন হলো জহিরুল ইসলাম ও রাজিয়া সুলতানা। তাদের সাংগঠনিক নাম জসিম ও আরজিনা। আরজিনার বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী গ্রামে। ছায়ানীড়ে নিহত নারী জঙ্গির নাম জোবাইদা বেগম। তিন পুরুষের মধ্যে একজন জোবাইদার স্বামী কামাল উদ্দিন। নিহত দুই বছরের শিশুটি এ জঙ্গি দম্পতির। বাকি দু’জন হলো_ রাজধানীর মিরপুর পূর্ব মণিপুর থেকে নিখোঁজ আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসান। তারা দু’জন সম্পর্কে খালাতো ভাই। গ্রেফতার রাজিয়া ও নিহত জোবাইদা আপন বোন। তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে জসিমের বোন ও দুলাভাই রয়েছে। তাদের বাড়ি কক্সবাজারে। তবে নির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে আরজিনা ও নিহত জোবাইদা বেগম আপন বোন। তাদের বাড়ি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি হলেও মূলত তারা রোহিঙ্গা বলে ধারণা করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকতা। এ তথ্য সঠিক হলে সীতাকুণ্ডের দুটি জঙ্গি আস্তানায় থাকা চারজন একই পরিবারের।

মামলা, গ্রেফতার দু’জন রিমান্ডে :সাধন কুটির থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে ও পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ছায়ানীড়ে পুলিশের ওপর বোমা নিক্ষেপ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি ও হত্যায় প্ররোচিত করার দায়ে হত্যা মামলা করা হয়। গ্রেফতার জসিম ও আরজিনাকে গতকাল আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। আদালত তাদের ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

লাশ চমেক মর্গে :চার জঙ্গি ও এক শিশুর মরদেহের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করেছে সিআইডি ও জেলা পুলিশের একটি দল। গতকাল সকালে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাবিবুর রহমান বলেন, শুধু নিহত নারী ও পুরুষ জঙ্গির চেহারা কিছুটা বোঝা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here