নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের সম্পত্তিকে অবৈধভাবে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি। ফতুল্লার আলীগঞ্জ মাঠের প্রকৃত মালিক নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ হলেও তাদেরকে কিছু না জানিয়েই সদর উপজেলা প্রশাসন সে জায়গায় গরুর হাটের ইজারা দেওয়ায় এ অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশের সাথে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে সদর উপজেলা প্রশাসন এই অপকর্মটি করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

আলীগঞ্জ মাঠ উপজেলা প্রশাসনের ইজারা দেওয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার চৌধুরী নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে বলেন, ‘আলীগঞ্জ মাঠ নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের সম্পত্তি। গণপূর্ত বিভাগের সম্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসন হাটের ইজারা দিতে পারে না, এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। যদি এমনটা হয়ে থাকে, আমরা অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জেবিন বিনতে শেখ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কেউই কল রিসিভ করেননি।

জানা যায়, ফতুল্লা আলীগঞ্জের ১১ দশমিক ৬৫ একর জমিতে সরকারী কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ৮ টি ১৫ তলা ভবনে মোট ৬৭২ টি ফ্লাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় । সেই ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে ৫ একর ৭০ শতাংশ জমিতে আলীগঞ্জ মাঠ অবস্থিত। আলীগঞ্জ মাঠে সরকারী কর্মকর্তাদেও আবাসন নির্মাণের সরকারী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত বছর ৭ এপ্রিল আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ সুপ্রিম কোর্ট বিভাগে রীট পিটিশান দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ শুনানী শেষে ফতুল্লা আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে একনেকের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষনা হবে না, সেই মর্মে মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধাণমন্ত্রীর সচিব, অর্থ সচিবসহ আট কর্মকর্তার উপর রুল নিশি জারী করেন। এরপর চলতি বছরের ৬ জুন বিচারপতি নাইমা রহমান ও বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ আলীগঞ্জ মাঠের কোনরূপ আকৃতি বা প্রকৃতি পরিবর্তন হবে না, সেই মর্মে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন।

অথচ কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্পত্তির মূল মালিক গনপূর্ত বিভাগকে না জানিয়েই আলীগঞ্জ মাঠে গরুর হাটের ইজারা দেয় সদর উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২১ আগষ্ট) সর্বোচ্চ ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকায় এই ইজারা লাভ করেন আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশের চ্যালা আরিফুল ইসলাম। মাঠ রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টে রীটকারী কাউসার আহমেদ পলাশ এবার নিজের নামে না নিয়ে নিজেরই আরেক চ্যালা দিয়ে আলীগঞ্জ মাঠের টেন্ডার ড্রপ করান। উপজেলা প্রশাসনের অস্থায়ী গরুর হাট ইজারার দিন উপজেলা পরিষদে কাউসার আহমেদ পলাশও উপস্থিত ছিলেন তার লোকবল নিয়ে।

পলাশের লোকজনেরা সেদিন জানিয়েছিলেন, পলাশ ভাই মাঠের ব্যাপারে হাইকোর্টে রীট দায়ের করেছিলেন বিধায় তিনি এবার তার নামে হাটের ইজারা নেননি।

ফলে পলাশের সাথে উপজেলা প্রশাসনের আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে সবার কাছে। আর তাই আলীগঞ্জ মাঠে অবৈধ গরুর হাটের ইজারা বাতিল করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নারায়ণগঞ্জবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here