নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: সদর থানাধীন আলীরটেক ইউনিয়নের মোক্তারকান্দি এলাকার আব্দুল বারেক বেপারী নামে (৮৪) বছরের এক বৃদ্ধের পৈত্রিক মালিকানাধীন শেয়ারচর মৌজাস্থিত আর,এস ক্ষতিয়ান-১২৬৯ নং- এবং এস,এ ক্ষতিয়ান ৪৩ নং, এস,এ দাগে-৫৯১,৫৯২,৫৯৩ এবং আর,এস দাগে-৬২৬,৬২৭,৬৩১,৬২৮ দাগে নাল ১০৮ শতাংশ জমি জবর দখল করার পাঁয়তারা করছে স্থানীয় এলাকার ভূমিদস্যু ইকবাল হোসেন গংরা।
এ বিষয়ে ভূক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুল বারেক বেপারী বাদী হয়ে গত ১১/০৬/২০১৭ইং নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়রী দায়ের করেন, যার নং-৪৪৯।

সাধারন ডয়রীতে তিনি উল্লেখ করেন স্থানীয় ভূমিদস্যু ইকবাল গংরা জবর দখলের জন্য তার পৈত্রিক মালিকানাধীন জমিতে বালু ভরাট করে জবর দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন গত১১/০৬/২০১৭ ইং তারিখ সকাল ১০ টার সময়। কিন্তুু এই জমির বিষয়ে এর আগে তিনি গত ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে একটি সিভিল ডিভিশন ২৪৩৯নং একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টে গত ১২ই জুলাই ২০০৯ সালে একটি মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট ডিভিশন উক্ত জমিতে উভয় পক্ষকে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারা জারি করেন এবং নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে উভয় পক্ষকে একটি নোটিশ জারি করার আদেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে শান্তি শৃঙ্খলা বাজায় রাখার লক্ষে থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে একটি নোটিশ জারি করেন।

মঙ্গলবার (২২ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই জমিতে জোর পূর্বক একটি ঘর তুলতে যায় স্থানীয় এলাকার আঃ জব্বার ব্যাপারীর ছেলে ভূমিদস্যু ইকবাল একই এলাকার মৃত লালু ব্যাপারীর ছেলে জব্বার বেপারী, আনোয়ার হোসেন , আমজাদ হোসেন সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জন।

পরে খবর পেয়ে ভূক্তভোগী বিষয়টি সদর থানা পুলিশকে জানালে এএসআই আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যাক্তিদের থানায় আসতে বলেন। পরে তারা থানায় আসলে সদর থানার আন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক উভয়কে আগামী ২৪শে আগষ্ট বৃহস্পতিবার সন্ধার থানায় কাজগপত্র নিয়ে আসতে বলেন। সদর মডেল থানার ওসি মীর শাহিন শাহ পারভেজ এ সময় থানায় ছিলেন না। তখন মামলার বাদী বৃদ্ধ আব্দুল বারেক বেপারীর মামাতো ভাই আবুল হোসেন থানায় গেলে ইকবাল হোসেন তাকে শাসিয়ে পুলিশের সামনে বলে তুই থানায় কি চাস? তখনসে উত্তরে ইকবাল হোসেনকে বলে আমি জোতের মালিকের ভাই আমি আসব না কে আসবে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আলীরটেক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মোক্তারকান্দি এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য এই ইকবাল হোসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইকবাল হোসেন মেম্বার হওয়ায় এলাকায় অনেক প্রভাব বিস্তার করে। তাছাড়া এলাকায় রয়েছে তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। সে নিরহ জমির মালিকদের হয়রানি করে তাদের জমি জবর দখল করেন! স্থানীয় এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা তার পিছনে এসব কাজের ইন্দন দেন বলে জানান তারা।

বিষয়টি জানতে আলীরটেক ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মোক্তারকান্দি এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয় যায়।

এদিকে সাধারন জনতার এ বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও কি করে ওই জমিতে বালু ভরাট করে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করতে যাওয়ার সাহস পেলে? কারা এর পেছনে বিষয়টির সেল্টার দিচ্ছেন? তাছাড়া সদর থানার বর্তমান ওসি হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে কতটুকু গুরত্ব দিচ্ছেন? এমন সব নানা প্রশ্ন এখন সাধারন জনতার।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here