নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: করোনা মহামারির তিন মাস পেরিয়ে গেছে। এ তিন মাসে নারায়ণগঞ্জবাসীর সমস্যা সমাধানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। করোনার কারনে সৃষ্ট অচলাবস্থায় অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা প্রদান থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজে তদারকি করে চলেছেন। সর্বশেষ আকষ্মিক ভারী বৃষ্টিপাতে ডিএনডি এলাকায় সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে সাংসদের নেয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে।

অপরদিকে করোনাকালীন সময়ে নিজেকে খোলসে আবৃত করে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী। একটি দিনের জন্যেও তার নির্বাচনী এলাকায় বের হননি তিনি, সরকারী ত্রাণ সামগ্রী কাউন্সিলরদের মাধ্যমে বিতরণ করিয়েছেন ঘরে বসে থেকে। নিজ উদ্যোগে নেননি কোন পদক্ষেপ, এমনকি যে ভোটাররা তাকে পরপর তিনবার বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে, তাদের একটু সান্তনা পর্যন্ত দেননি। উপরন্তু টেলিফোনে একজন সাহায্য প্রার্থীর সঙ্গে করেছেন খারাপ আচরণ। আর তাই এ সময়ে নগরবাসীর কাছে তীব্র সমালোচিত নারায়ণগঞ্জের নগর মাতা।

সূত্রে প্রকাশ, করোনা শুরুর সাথে সাথে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের অসহায় কর্মহীন জনগনের জন্যে এক কোটি টাকার অনুৃদান প্রদান করেন সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। এছাড়াও এমপি পত্নী সালমা ওসমান লিপি ও পুত্র অয়ন ওসমানও দুস্থ্য মানুষের সাহায্যে প্রতিনিয়িত কাজ করে যাচ্ছেন। সাংসদের নির্দেশে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে সাহায্য পৌছে দিয়েছেন। তাছাড়া যে কোন জরুরী প্রয়োজনে সাংসদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে।

করোনা প্রকোপের মাঝেই গত ১৮ ও ১৯ জুনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি অভ্যন্তরের এলাকাগুলিতেও পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নিজ নির্বাচনী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সাথে সাথে ছুটে আসেন সাংসদ শামীম ওসমান এবং রাইফেল ক্লাবে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে আকষ্মিক সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্যে জনসাধারণের কাছে ক্ষমা চান এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের ঘোষনা দেন। ঘোষনা দিয়েই বসে থাকেননি তিনি ছুটে গিয়েছেন ঘটনাস্থলে এবং ডিএনডি প্রজেক্টে কর্মরত সেনা অফিসারদের সাথে কথা বলে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর দু:খ দুর্দশা লাঘবে সব সময় পাশে পাওয়ায় সাংসদ শামীম ওসমান এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভীর সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে হতাশ নগরবাসী। পরপর তিনবারের মেয়র আইভীর আকাশচুম্বি গ্রহনযোগ্যতা একদিনে তৈরী হয়নি। দিনের পর দিন নগরবাসীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণের মাধ্যমে আজ এ পর্যায়ে এসে পৌছেছেন তিনি। বিশেষ করে বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানে আইভীর তাৎক্ষণিক নেয়া পদক্ষেপগুলো প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র। মন্ডলপাড়ার ট্রাক স্ট্যান্ড সরানোর সময়ে নারী হয়ে কোমরে আচল পেচিয়ে যেভাবে তেড়ে গিয়েছিলেন মেয়র আইভী, তা কি এতো সহজে ভুলতে পারবে নগরবাসী।

তবে আইভীর সেই পুরানো চরিত্র আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায়। গত তিনমাসে প্রায় হাত পা গুটিয়ে বসেছিলেন নারায়ণগঞ্জের নগরমাতা। এক মুঠো চাল কিংবা একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার কারো হাতে তুলে দিতেও তিনি রাস্তায় নামেননি। বরং যে নগরবাসী বারবার তাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে, তাদের সাথেও ফোনে খারাপ আচরণ করেছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী পেশায় একজন চিকিৎসক। একজন জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হওয়ায় বর্তমান করোনা মহামারিতে আইভীর কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বি। কিন্তু মেয়র হিসেবে জনগনের পাশে দাড়ানোর বা দুস্থ্য অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়ানোর কথা থাকলেও লকডাউনের দুই মাসে বাসা থেকেই বের হননি তিনি। যে নারায়ণগঞ্জবাসী বারবার ভোট দিয়ে সেলিনা হায়াত আইভীকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, চরম দু:সময়ে তারা তাদের সেই প্রিয় মেয়রকে খুঁজেই পেলেন না। লকডাউনে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে নিজের হাতে এক মুঠো চাল দিতেও দেখা যায়নি তাকে। সরকারী ত্রাণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা তাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও সাধারণ মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকলেও নাসিক মেয়র আইভী সে কাজটিও করেননি।

একজন জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি সিটি মেয়র আইভী একজন চিকিৎসক। নামের আগে সব সময় ডা: কথাটি লেখা থাকলেও নারায়ণগঞ্জবাসী তার চিকিৎসা সেবা কখনো পাননি তাই এবার ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে নগরবাসী ভেবেছিলো চিকিৎসক আইভীর সেবা পাবেন নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু তাদের সে আশায়ও গুড়েবালি দিয়েছেন নাসিক মেয়র। সারা দেশের চিকিৎসক সমাজ যেখানে মৃত্যু ভয়কে উপক্ষো করে করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন, সেখানে ডা: সেলিনা হায়াত আইভী নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন নিজ বলয়ে। ফলে নগরবাসীর সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন নগরমাতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here