নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: জনপ্রতিনিধিদের বেঁধে দেয়া সময়সীমা আশ্বাসের বাণীতেই কেটে যাওয়ায় ফের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় হকাররা।
আগামী শনিবারের মধ্যে যদি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে অত্যন্ত পক্ষে হলিডে মার্কেটের মত প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী বসার অনুমতি না দেয়, তাহলে রবিবার থেকে ভুখা মিছিলসহ আরো কঠোরতর আন্দোলনে নামবে হকাররা বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার নেতা জানান, ‘গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে শৃংখলা বদ্ধ ভাবে বসার দাবীতে হকাররা আন্দোলন চালিয়ে আসার সময় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) সংসদ সদস্য আলহাজ¦ এ কে এম শামীম ওসমান ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত হকারদের ফুটপাতে বসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরদিন ১৬ জানুয়ারী এই ফুটপাতে বসাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সবকিছুই ভেস্তে যায়।’

তারা আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম ওসমানও হকারদের কোনরূপ আন্দোলনে না নেমে ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ফুটপাতে বসতে দেয়ার জন্য মেয়রের কাছে অনুমতি চাওয়ার আশ্বাস দেন। তারপর সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে শুধুমাত্র শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেটের মত বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার দাবী জানানো হলে সেদিনও এমপি সাহেব স্ব উদ্যোগেই এজন্য মেয়রের কাছে পুনরায় অনুমতি চাওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু সেলিম ওসমান মহোদয় পরবর্তীতে আমাদেরই মেয়রের কাছে অনুমতি চাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে পেটের তাগিদে আমরা বিভিন্ন কৌশলে মেয়রের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: আসাদুল ইসলাম আসাদ নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডিকে জানান, ‘হলিডে মার্কেটের মত প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসতে মেয়রের অনুমতি চাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি আগামী শনিবারের মধ্যে কোন সুরাহা না হয়, তাহলে রবিবার আমরা ভুখা মিছিলসহ আরো কঠোরতর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের বাণী শুনেই আমাদের দেয়া ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময়সীমা পার হয়ে গেছে। গত দুই মাসে বঙ্গবন্ধু সড়কের কয়েক হাজার হকার ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পরিবার নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাদের যেভাবে তালিকা দিতে বলেছিলেন, আমরা সেভাবেই হকারদের তালিকা জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার লক্ষ্যে ব্যবসা করার কোন স্থানই দিতে পারেনি তারা। তাই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের দাবী আদায় ছাড়া আর কোন পথ নেই।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের অনবরত উচ্ছেদ অভিযানের কারনে যখন দিশেহারা হয়ে আন্দোলনরত হকাররা এমপি, মেয়র, ডিসি, এসপির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেও ফুটপাতে বসার সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন গত ১৫ জানুয়ারী চাষাড়ায় বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ হকার্স সংগ্রাম পরিষদ।

এরপর সেদিন সেই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান যখন উপস্থিত হন, তখন নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বয়োবৃদ্ধ হকারসহ তাদের স্ত্রী সন্তানেরা।

পরবর্তীতে গরীব হকারদের কষ্টে আবেগাপ্লুত শামীম ওসমান ১৬ জানুয়ারী বিকেল ৫ টা থেকে নগরীর ফুটপাতে হকারদের বসার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি মেয়রসহ স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারী উচ্চারন করে আরো বলেন, ‘ফুটপাতে হকাররা বসবে, এটা কোন অনুরোধ নয়। এটা শামীম ওসমানের নির্দেশ। আমি নিজে উপস্থিত থেকে হকারদের সুশৃংখল ভাবে ফুটপাতে বসার ব্যবস্থা করে দিব। এরপরেও যদি কোন হকারকে উচ্ছেদ করা হয়, তবে সেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমি রুখে দাঁড়াবো।’

তারপর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারী বিকেলে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবে অবস্থান করে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে ফুটপাতে হকারদের বসার ব্যবস্থা করাকালীন সময়ে হকারদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন জানানোর লক্ষ্যে নগর ভবন থেকে ফুটপাতের উপড় দিয়ে পদযাত্রা বের করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় মুক্তি ক্লিনিকের সামনে আইভী সমর্থকরা ফুটপাতে রাখা হকারদের চকি তুলে রাস্তায় ফেলে দেয়ার সময় বাঁধা দিতে যান শামীম ওসমানের কর্মী নিয়াজুল।

তখন নিয়াজুলকে আইভী সমর্থকরা দু’দফা ধাক্কা দিলে নিয়াজুল নিজের সাথে থাকা লাইসেন্সকৃত অস্ত্র উচিয়ে ফাঁকা গুলি বর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু পিস্তল থেকে গুলি বের না হওয়ায় আইভী সমর্থকরা নিয়াজুলকে ফুটপাতে ফেলে গণধোলাই দেয়া শুরু করলেই বিপরীত দিক থেকে বিক্ষুব্ধ হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে শামীম ওসমান ও আইভী সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সেসময় মেয়র আইভী রাস্তায় বসে পড়লে তার সাথে থাকা কর্মী সমর্থকরা মানবঢাল করে তাকে রক্ষা করেন। তারপর এই সংঘর্ষের জন্য আইভী শামীম ওসমানকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শামীম ওসমান আইভীকে ঢাকায় তলব করা হয়। সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।
আর এই সংঘর্ষের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনো তদন্ত কাজ চালিয়ে গেলেও অজ্ঞাত ৫/শ’ হকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here