নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ফতুল্লার টাগারপাড় এলাকার আশরাফুল ইসলাম বাবু হত্যা মামলা নিয়ে আসামী পক্ষের একের পর এক ষড়যন্ত্রে এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে নিহত বাবুর পরিবার। আসামী পক্ষের হুমকির পাশাপাশি নিহত বাবুর ভাইদের নামে আসামী পক্ষ একের পর এক মিথ্যা মাললা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তাই বাবু হত্যার বিচার দেখা যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন নিহত বাবুর মা।

বাবুর মা জানায়, এক ছেলের হত্যার বিচারের দাবীতে যখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছি তখন আরো তিন ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাচ্ছে আসামী পক্ষ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন এদেশে কি বিচার বলতে কিছু নেই।

জানাগেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই রাতে আশরাফুল ইসলাম বাবুকে গুলি করে হত্যা করে একই এলাকার পরিবহন সন্ত্রাসী আব্দুল জিলানীর পুত্র রফিকুল ইসলাম রফিকসহ কয়েক জন সন্ত্রাসী। ঘটনার একদিন পর ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত বাবুর ছোট ভাই সোহেল। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো- স্থানীয় সন্ত্রাসী উজ্জল, চঞ্চল, আজিম, জনি, নয়ন, মনির, টুটুল।

হত্যা মামলা দায়ের পর পরই বিভিন্ন হয়রানী মূলক নিহত বাবুর ভাইদের জেল খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। আসামী পক্ষ কিছু সাধু পুলিশের সহযোগীতায় বিভিন্ন কৌশলে বাবুর ভাইদের মামলা দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় গনমাধ্যম গুলোতে প্রকাশ হওয়ার এবার আসামীরা তাদের কৌশল পাল্টেছে।

গত বুধবার নিহত বাবুর ভাই স¤্রাটকে একটি মামলায় গ্রেফতার করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার ঐ মামলায় বাবুর আরেক ভাই আদালতে আত্ম সমর্পন করলে তাকেও আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রায় আড়াই মাস আগে আদালতে একটি মামলা দায়ের মনসুর নামে এক ব্যাক্তি। মনসুর বাবু হত্যা মামলার প্রধান আসামী রফিকুল ইসলামে আত্মীয়। মনসুর খানপুর হাসপাতালের সোহেল রানা নামে এক কর্মীকে দিয়ে মিথ্যা রিপোর্ট নিয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করে।

এর আগে, হত্যা মামলা দায়ের কয়েক মাস পরই এই মামলার এক আসামীকে অপহরণের অভিযোগ তুলে উল্টো নিহত বাবুর দুই ভাইকে টঙ্গি থানা পুলিশ গ্রেফতার করে অমানষিক নির্যাতন চালায়। হত্যা মামলার বাদী পক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে আসামী চঞ্চলের বাবা কৌশলে টঙ্গি থানা একটি অপহরন মামলা দায়ের করে নিহত বাবুর দুই ভাইকে পলিশ দিয়ে নির্যাতন করায়। এর কয়দিন পরেই ফতুল¬া থানার এক দারোগা বাবুর অপর এক ভাইকে গ্রেফতার করে কৌশলে ভ্রাম্যমান আদালতের অপব্যবহার করে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয়। এই হত্যা মামলার বাদী নিহত বাবুর ছোট ভাই সোহেলকে পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে হয়রানী করা হয়েছে।

নিহত বাবুর মা মাহমুদা বেগম জানায়, এক ছেলেকে হত্যা করেছে আর আমার বাকি চার ছেলের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। বাবু হত্যা মামলাটি আদালত যখন নতুন করে পিআবিকে তদন্তের নিদের্শ দিয়েছে ঠিক তখন আসামী পক্ষ নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে।

এসময় মাহমুদা বেগম ছেলে হত্যার বিচার ও পুলিশ হয়রানী থেকে বাঁচতে সাংসদ শামীম ওসমান ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here