আয়নাবাজি’ ও ‘দেবী’র মধ্যে তুলনা করা ঠিক হবে না

0
952

হুমায়ূন আহমেদের দেবী উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে যাচ্ছে। ছবিতে হুমায়ূন আহমেদের আলোচিত চরিত্র ‘মিসির আলী’র বেশ ধারণ করবেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই অভিনেতার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তিনি একটি সেলুনে চুল ছাঁটাচ্ছিলেন। কথার একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার প্রসঙ্গ আসতেই চঞ্চল বলেন, এই মুহূর্তে তিনি ক্যামেরার সামনে আসতে চান না। যা কথা ফোনেই সেরে নেওয়ার অনুরোধ করেন। চঞ্চলের কথায় বোঝা গেল, তিনি এখন পুরোপুরি মিসির আলীতে ডুবে আছেন।
চুলের ছাঁট ছাড়া ‘মিসির আলী’ হওয়ার জন্য আর কী প্রস্তুতি নিয়েছেন?
চুলের ছাঁট, পোশাক, সাজসজ্জা, মহড়া—এসব নিয়েই এখন যত ব্যস্ততা। মিসির আলী অনেক জনপ্রিয় চরিত্র। দেবী উপন্যাস তো আমি কলেজজীবনেই পড়ে ফেলেছি। সাধারণ মানুষ যেমন, তার চেয়ে ভিন্নধর্মী এক চরিত্র মিসির আলীর। তার কথাবার্তা, চালচলন, অভ্যাসগুলো—সবকিছু নিয়েই কাজ করতে হবে। তাই পুরোদমে মিসির আলী হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছি।
একেকজন পাঠকের কল্পনায় মিসির আলী একেক রকম। তাই সবার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে কোনো চাপ অনুভব করছেন কি?
এটা ঠিক যে যাঁরাই মিসির আলী পড়েছেন, তাঁদের সবার মধ্যে নিজের মতো একটা অবয়ব কল্পনা করা আছে। দর্শকের সেই একান্ত প্রত্যাশাগুলো পূরণ করাটা কিছুটা কষ্টসাধ্য। আমি যেভাবে ভাবব, সেভাবে তো শতভাগ হবে না। তবে যিনি এই উপন্যাস লিখেছেন, সেই হুমায়ূন আহমেদ স্যার মিসির আলীর চরিত্র সম্পর্কে একটা বর্ণনা দিয়েছেন। লেখক, পরিচালক ও আমার—তিনজনের ভাবনার মিশেল ঘটিয়ে আমাদের এই ছবির মিসির আলী হবে। দর্শক যেন এই মিসির আলীকে সানন্দে গ্রহণ করেন, সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছি।
‘দেবী’ ছবির অন্য চরিত্রগুলোতে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের অবয়ব কি আপনার পড়া ‘দেবী’র কল্পনার সঙ্গে মিলেছে?
পাঠক হিসেবে আমি বলতে পারি, আমার চিন্তার সঙ্গে সবই মিলল কি মিলল না, তাতে কিছু যায় আসে না। তবে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রটিতে জয়া আহসানের অভিনয়কে আমি উপযুক্ত মনে করি। তাঁর সঙ্গে উপন্যাসের ‘রানু’ চরিত্রটির একধরনের মিল খুঁজে পাই। সব চরিত্র চাইলেই তো শতভাগ মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব না। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। শুরুতে আমি এটুকুই বলতে চাই, আমার নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাব।
‘আয়নাবাজি’ মুক্তির পাঁচ মাস পর নতুন আরেকটি সিনেমার কাজ করতে যাচ্ছেন। সেই ছবির সফলতার পর কি নতুন কাজ নিয়ে কিছুটা চাপ অনুভব করছেন?
একজন শিল্পীর সব ছবি তো মাস্টারপিস হবে না। আয়নাবাজি ও দেবী—এদের মধ্যে তুলনা করাটা আমার জন্য মানসিক চাপ। আমি এসব ভুলে গিয়ে কাজটা শেষ করতে চাচ্ছি। আয়নাবাজি ও দেবীর মধ্যে তুলনা করা ঠিক হবে না। আমি বিষয়টি এভাবে দেখছিও না। প্রতিটি শিল্পই আলাদা। তবে আয়নাবাজি করার পর আমাকে ঘিরে দর্শকের যে প্রত্যাশা বেড়েছে, তা অতিক্রম করা এক চ্যালেঞ্জই বটে। তাই যতই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি না কেন, মাথায় একটা চাপ তো থাকেই।
এই সিনেমার শুটিং কি একটানা হবে?
হুম। যত দূর শুনেছি, শুটিং হবে টানা এক মাস। এই সময়টায় আমি কাজের বাইরে কারও সঙ্গে মিশব না। আমার ‘লুক’ প্রকাশ পেয়ে যাক, তা চাই না।
আপনি বলেছিলেন, ‘আয়নাবাজি’ মুক্তির পর দুই বছরের মধ্যে নতুন কোনো সিনেমার কাজ করবেন না।
খুব বিশেষ কোনো কাজের প্রস্তাব না পেলে দুই কেন, আগামী পাঁচ বছরেও নতুন সিনেমার কাজ করতাম না। আয়নাবাজি মুক্তির পর ১৫টি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। দেবী যেহেতু আমার পছন্দের উপন্যাস এবং মিসির আলী প্রিয় চরিত্র, তাই ভালো একটি কাজের অংশ হয়ে গেলাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here