নিউজ প্রাচ্যের ডান্ডি: ‘হাটের ইজারা দেবে জেলা প্রশাসন আর ব্যবসা করবে ইজারাদারা, মাঝখানে নিরাপত্তার ঝঞ্জাট পোহাতে হবে আমাদের। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এবার নিয়মের বাইরে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মঈনুল হক।
ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে পশুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ইজারাদারদের সাথে মত বিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শনিবার (২৬ আগষ্ট) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এই মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মত বিনিময় সভায় জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, ‘হাটের ইজারা দেবে জেলা প্রশাসন আর ব্যবসা করবে ইজারাদারা, মাঝখানে নিরাপত্তার ঝঞ্জাট পোহাতে হবে আমাদের। আমরা আমাদের নিয়মের বাইরে যাবো না। আইনে মহাসড়কের যতটুকু দুরত্বে হাট ইজারা দেওয়ার রীতি আছে, তার বাইরে হাটের অনুমতি যারা দেবে, নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। মহাসড়কের উপরেই যদি কেউ পশুর হাটের ইজারা দিয়ে থাকেন, তাহলে এর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। আমরা নিয়মের বাইরে যেতে পারবো না।’

এ সময় উপস্থিত ইজারাদারদের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নওশাদ আলীর বিচ্ছু বাহিনী সদর থানাধীন কয়লাঘাটে একটি অবৈধ হাট বসিয়েছে এবং ট্রলারে করে বেপারীরা তাদের হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রলার আটকে গরু নিয়ে টানাটানি করে। বৃহস্পতিবার এমনই একটি গরু বোঝাই ট্রলারের তলা ফুটো করে দিয়ে ছিলো নওশাদের লোকজন। প্রায় পঁঞ্চাশটির মতো গরু ডুবে যাওয়ার উপক্রম তৈরী হয়েছিলো। তখন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন শাহ পারভেজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোর্স পাঠিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে আসেন। ’

এর উত্তরে পুলিশ সুপার মইনুল হক বলেন, ‘চেয়ারম্যান হোক আর আরো উপরের লোক হোক, অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নৌপথে ট্রলারে গরু টানাটানি কোনক্রমেই মেনে নেয়া হবে না। এ বিষয়ে তৎপর হতে নৌ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিটি হাটের জন্য একজন করে এসআইকে দায়িত্ব দেয়া হবে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনী সহযোগিতা দেবে। তাই বলে সব কিছুই পুলিশ করবে, এটা ভেবে বসে থাকলে চলবে না।’

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘নিজেদের হাটের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরকেই পালন করতে হবে। আপনারদের নিজস্ব খরচে আনসার কিংবা ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে হবে। তাছাড়া সম্ভব হলে হাটে সিসি ক্যামেরা বসাতে পারেন। কোথাও কোন সমস্যা দেখা দিলে সেই হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার কিংবা সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করবেন এবং সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের আশেপাশের জেলাগুলোতেও যদি পশুবাহী ট্রলার কিংবা ট্রাক আটকানো হয়, তাহলেও আমাদের জানাতে পারেন, আমরা সংশ্লিষ্ট থানার সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করবো। সর্বপোরী সকলের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জবাসীকে একটি নিরাপদ ও নির্বিঘœ ঈদ উপহার দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’

মঈনুল হক এসময় সবাইকে সবাইকে পবিত্র ঈদ উল আযহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মো: শরফুদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) সাজেদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আ: রশিদ, নারায়ণগঞ্জের সাত থানা এবং ডিবি ও নৌ পুলিশের ওসিবৃন্দ, সাইনবোর্ড গিরিধারা হাটের ইজারাদার নাজিমউদ্দিন, কাশীপুর হাটের ইজারাদার আইউব আলী, বক্তাবলী চরবয়রাগাতি হাটের ইজারাদার মাহমুদ মেম্বারসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আওতাধীন পশুর হাটের ইজারাদারগন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here